বকেয়া ন্যাভিগেশন চার্জ পরিশোধ না করায় ভারতীয় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন SpiceJet–কে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার থেকে সাময়িকভাবে বিরত রেখেছে Bangladesh। এ সিদ্ধান্তের ফলে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী কয়েকটি ফ্লাইটকে এখন বিকল্প দীর্ঘ রুটে চলাচল করতে হচ্ছে, যা বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে যাচ্ছে।
বকেয়া পরিশোধ ইস্যুতে জটিলতা
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ। যদিও ঠিক কত অর্থ বকেয়া রয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এয়ারলাইনটির এক মুখপাত্র ১৯ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অপারেশনাল ও প্রক্রিয়াগত বিষয়—বিশেষ করে ন্যাভিগেশন চার্জ—নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে কোম্পানি। তিনি বিষয়টিকে শিল্পখাতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোম্পানির সামগ্রিক ফ্লাইট সূচি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক বিধিমালা মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
বিকল্প রুটে বাড়ছে যাত্রাপথ
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম Flightradar24–এর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গন্তব্যগুলোর মধ্যে চলাচলকারী স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলোকে গতকাল বাংলাদেশি আকাশসীমা এড়িয়ে ঘুরপথে যেতে দেখা গেছে। এতে উড়োজাহাজগুলোর যাত্রাপথ দীর্ঘ হচ্ছে, যা সময় ও জ্বালানি ব্যয় উভয়ই বাড়াতে পারে।
আর্থিক চাপে স্পাইসজেট
এদিকে পুঁজিবাজারে কোম্পানির শেয়ারদরে প্রভাব পড়েছে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) লেনদেন চলাকালে স্পাইসজেটের শেয়ার প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৬.৮১ রুপিতে নেমে আসে।
সম্প্রতি কোম্পানিটি ডিসেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকের জন্য ২৬৯.২৭ কোটি রুপি লোকসানের তথ্য প্রকাশ করেছে। বাড়তি পরিচালন ব্যয় ও এককালীন খরচ বৃদ্ধির কারণে এই লোকসান হয়েছে বলে জানানো হয়।
আঞ্চলিক সংযোগে সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলাদেশের আকাশসীমা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিমান চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে বিবেচিত। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হলে সংশ্লিষ্ট রুটে পরিচালন ব্যয় ও সময়সূচিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




