দ্য ডেইলি কর্পোরেট আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সাম্প্রতিক হামলাকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উত্তর কোরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা “অনুমানের মধ্যেই ছিল” এবং এটি ওয়াশিংটনের “আধিপত্যবাদী ও গ্যাংস্টারসুলভ” নীতিরই প্রতিফলন। মুখপাত্র বলেন, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই “আগ্রাসী যুদ্ধ” পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
উত্তেজনার পটভূমি
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর পরপরই তেহরান প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানায়। বিভিন্ন দেশ সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলদাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চল হওয়ায় সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে সক্ষম।
উত্তর কোরিয়ার এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা




