ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি: কৃষি খাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬-এর অংশ হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শস্য উৎপাদন, ফসল সংগ্রহ ও পশুপালন খাতে নেওয়া ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ এই সুবিধার আওতায় আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ক্ষুদ্র কৃষকদের মোট বকেয়া কৃষি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যার একটি অংশ এই মওকুফ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে।
নীতিনির্ধারকদের ধারণা, ঋণ মওকুফ কার্যকর হলে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের চাপ কমবে এবং তারা নতুন মৌসুমে উৎপাদনে পুনরায় বিনিয়োগ করতে সক্ষম হবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণ পরিশোধে ব্যয় হওয়া অর্থ কৃষকরা উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ও উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করতে পারলে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়তে পারে।
এ উদ্যোগের ফলে কৃষকদের ঋণমান বা ক্রেডিট প্রোফাইল উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি সহজ করবে এবং উচ্চ সুদের অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাবে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে বিনিয়োগ বাড়ার মাধ্যমে জাতীয় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাসের সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহ বাড়লে শহরমুখী অভিবাসন কমতে পারে এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯১–১৯৯৬ সময়ে তৎকালীন সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদ-আসল মওকুফ করেছিল, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে।




