লেখকঃ কাজী গণিউর রহমান
সরকারের পরিকল্পনায় পরিণত হতে যাচ্ছে দুই বড় মেগা সেতু: ভোলা-বিশাল (১০.৮৬ কিমি) এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর (৮ কিমি)। এ দুটি সেতুর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩,৪২৩ কোটি টাকা (প্রায় $৩.১ বিলিয়ন)। সম্পূর্ণ প্রকল্প সমাপ্ত হবে ২০৩২–৩৩ সালের মধ্যে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে The Business Standard—যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সেতু দুই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার (কোরিয়া ও জাপান) অর্থায়নের অধীনে PPP ভিত্তিতে নির্মিত হবে।
ভোলা–বরিশাল সেতু: longest in Bangladesh
এই সেতু হবে দেশের দীর্ঘতম সেতু—দৈর্ঘ্য ১০.৮৬ কিমি, টাকা ১৭,৪৬৬ কোটি ব্যয়ে তৈরি হওয়ার কথা। এটি ভোলা দ্বীপকে বরিশালের স্থলভাগের সঙ্গে স্থায়ী সড়কমার্গে সংযুক্ত করবে। Feasibility রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ বছরে এই সেতু জিডিপিতে ০.৮৬% অবদান রাখবে, পাশাপাশি গ্যাস পায়েপের সরবরাহ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ওপেনিং ২০৩৩ সালে পরিকল্পনা।
শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু: দক্ষিণ–এশিয়ায় সংযুক্তি
এই সেতু ৮ কিমি দীর্ঘ, যার নির্মাণ ব্যয় নির্ধারিত টাকা ১৫,৯৫৭ কোটি। এটি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১টি দক্ষিণ-পশ্চিম ও ১১টি দক্ষিণ-পূর্ব জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। পরবর্তীতে খুলনা–চট্টগ্রাম দূরত্ব ৯০ কিমি কমিয়ে আনবে, ঢাকার যানজট ও সময় ভোগান্তি হ্রাস করবে। প্রকল্পটি ২০৩২ সালের মধ্যে সমাপ্ত হবে।
অর্থায়ন, সময়সূচি ও প্রত্যাশিত ফলাফল
- অর্থায়ন: দক্ষিণ কোরিয়ার EDCF (০.০১–০.০৫% সুদ, ৪০ বছরের মেয়াদ) এবং জাপানের PPP মেকানিজমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হবে। দুটি সেতুর প্রস্তাব প্ল্যানিং কমিশনে ২৫ জুন জমা হয়েছে, আর বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে।
- সময়সূচি: উভয় সেতুর কাজ শুরু হবে শিগগিরই, যাতে ২০৩২–৩৩ সালের মধ্যে ডিজাইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা যায়।
সমীক্ষা
| সেতুর নাম | দৈর্ঘ্য | ব্যয় (টাকা কোটি) | প্রধান সুবিধা |
| ভোলা–বরিশাল সেতু | ১০.৮৬ কিমি | ১৭,৪৬৬ | দেশের দীর্ঘতম সেতু, জিডিপির ০.৮৬% অবদান, গ্যাস সংযোগ |
| শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু | ৮.০ কিমি | ১৫,৯৫৭ | খুলনা–চট্টগ্রাম দূরত্ব কমাবে, দৃঢ় দক্ষিণ সংযোগ |
চূড়ান্ত বিশ্লেষণ
এই দুই মেগা সেতু শুধুমাত্র যোগাযোগ সহজ করবে না, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে মূল পরিবর্তন আনবে। ভোলা এবং দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপাঞ্চল এলাকা উন্নয়ন ও জনসাধারণের জীবনযাত্রা বদলে যাবে। তাছাড়া, খুলনা থেকে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হওয়ায় শিল্প, বাণিজ্য ও ভৌগোলিক পারস্পরিক সংযোগ আরও জোরালো হবে।
এগুলি বাস্তবায়ন করা সেখানকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, PPP কাঠামো, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রাকৌশলমূলক পরিকল্পনা নির্ভর করবে। ভুলেদরি হলে সোনালী সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে বিডার বেসরকারি খাতের টিমের উদ্ভাবনী উদ্যোগ
নিজে নিজে প্রোগ্রামিং শেখা: ক্যারিয়ার, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথ
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১। কেন ভোলা–বরিশাল সেতু এত গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ এটি দেশের সর্ববৃহৎ সেতু হবে, দ্বীপাঞ্চল ভোলাকে স্থলভাগের সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত করবে এবং গ্যাস ও রপ্তানিকে উৎসাহিত করবে।
প্রশ্ন ২। দুই সেতুর মোট খরচ কত?
উত্তরঃ মোট খরচ আনুমানিক টাকা ৩৩,৪২৩ কোটি, বা প্রায় $৩.১ বিলিয়ন।
প্রশ্ন ৩। অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে?
উত্তরঃ দক্ষিণ কোরিয়ার EDCF থেকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী সুদে ঋণ এবং জাপানের সহযোগিতায় PPP ভিত্তিতে অর্থায়ন আশা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ৪। সময়সীমা কী?
উত্তরঃ উভয় প্রকল্প ২০৩২–৩৩ সালের মধ্যে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।



