লিখেছেনঃ বাহারিন আক্তার অন্তরা
১৪ মে ২০২৬, ঢাকা — সাধারণ ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আর্থিক চাপ কমাতে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্কের শর্ত শিথিল করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত সীমা বর্তমান ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হতে পারে।
বর্তমান নিয়মে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যেকোনো সময় ব্যালেন্স ৩ লাখ টাকা অতিক্রম করলে আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হয়। নতুন বাজেটে এই সীমা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী এই বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন।
তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার পরবর্তী ধাপগুলোর শুল্কহার অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতে ৫০০ টাকা শুল্ক এবং ৫ কোটি টাকার বেশি আমানতে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক বহাল থাকতে পারে।
বর্তমানে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। শুল্কমুক্ত সীমা বাড়ালে সরকারের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বস্তি বিবেচনায় সরকার এই ঘাটতি মেনে নেওয়ার দিকেই এগোচ্ছে।
এছাড়া ক্ষুদ্র ও গ্রামীণ ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ কর ব্যবস্থা বা ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার জটিলতার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাটের ভিত্তিতে সহজ নিয়মে কর পরিশোধের সুযোগ ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক আমানতের ওপর শুল্ক অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের শুল্কের পরিবর্তে আধুনিক ও ন্যায্য সম্পদ কর ব্যবস্থা চালু করা আরও কার্যকর হতে পারে।



