দুই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ ডিসেম্বর
নিম্নমান ও ভেজাল খাদ্যপণ্য বাজারজাতের অভিযোগে নেসলে বাংলাদেশ, মেঘনা গ্রুপ এবং এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য আদালত।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) কামরুল হাসানের আবেদনের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ নভেম্বর) ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি এ পরোয়ানা জারি করেন। সংশ্লিষ্ট দুই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর।
নিম্নমানের কিটক্যাট—নেসলে বাংলাদেশের এমডি ও পলিসি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামান–এর বিরুদ্ধে নিম্নমানের কিটক্যাট চকলেট বাজারজাতের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
এর আগে কিটক্যাটের নিম্নমান নিয়ে একটি মামলা (২০/২০২৫) চলমান রয়েছে। সেই মামলায় সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মোজাম্মেল হোসাইনের বিরুদ্ধে আগেই পরোয়ানা জারি হয়েছে।
পরীক্ষায় দেখা যায়—
- দুধের কঠিন অংশ থাকার কথা ১২–১৪%, পাওয়া গেছে ৯.৩১%
- দুধের চর্বি থাকার কথা ২.৫–৩.৫%, পাওয়া গেছে ১.২৩%
এ ছাড়াও নতুন নমুনা পরীক্ষা করেও কিটক্যাটকে মানহীন পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নেসলে বাংলাদেশ বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র ছাড়াই দুবাই ও ভারত থেকে কিটক্যাট আমদানি করেছে, যা আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪–এর লঙ্ঘন।
তবে নেসলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেছেন, বিষয়টি “হ্যারেজমেন্ট ছাড়া কিছু নয়” এবং কিটক্যাটের এখনো কোনো বিএসটিআই মান নির্ধারিত নেই।
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভেজাল চিনি মামলায় পরোয়ানা
“ফ্রেশ রিফাইন সুগার” ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল–এর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
শাপলা শাখা (মধ্য বাসাবো) থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় চিনিটি মানসম্মত না পাওয়া যায়, যা নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ২৩ ও ২৬ ধারা লঙ্ঘন।
মেঘনা গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা মামলার বিষয়ে কিছুই জানে না এবং বিষয়গুলো “মিথ্যা”।
মানহীন দুধের গুঁড়া—এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
“গোয়ালিনী ডেইলি ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার”–এ ভয়াবহ মানহীনতা প্রমাণিত হওয়ায় এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আলম–এর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ল্যাব রিপোর্টে দেখা যায়—
- ন্যূনতম দুগ্ধচর্বি থাকা উচিত ৪২%, পাওয়া গেছে ৭.৫৮%
- প্রোটিন থাকার কথা ৩৪%, পাওয়া গেছে মাত্র ৯.৫০%
পরীক্ষাগারে “গুরুতর জালিয়াতি ও সম্পূর্ণ মানহীনতা”র তথ্য উঠে আসে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, প্রতি মাসে প্রায় ১৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কোনো পণ্য মানহীন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের লেবেলে লেখা উপাদানের সঙ্গে প্রকৃত উপাদান মেলে না—এ কারণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




