ঢাকা: আগামী অর্থবছর থেকে স্বর্ণ, গহনা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্জিত মূলধনী মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত অর্থ বিল অনুযায়ী, করদাতার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, রৌপ্য, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল কারেন্সি, শিল্পকর্ম, পুরাকীর্তি এবং ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফাকে মূলধনী মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।
একইসঙ্গে ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক ও অন্যান্য শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ, পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ার ও স্টক বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধনী মুনাফাও একই হারে করযোগ্য হবে।
স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত এক বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি দুই লাখ ২৪ হাজার টাকার বেশি, যা কয়েক বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি।
তবে প্রস্তাবিত করের বিরোধিতা করেছে দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান এ করকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, স্বর্ণকে প্রচলিত আর্থিক সম্পদের মতো বিবেচনা করা ঠিক হবে না এবং এ ধরনের কর আরোপ আনুষ্ঠানিক লেনদেনকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ কর কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চমূল্যের সম্পদ থেকে অর্জিত মুনাফাকে করের আওতায় আনা হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও সমতাভিত্তিক হবে।
এদিকে, গহনা খাতকে কিছু সুবিধাও দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরি প্রতি নির্দিষ্ট ২,৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ, রৌপ্য, গহনা, হীরা ও মূল্যবান ধাতু ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করনীতি বাস্তবায়িত হলে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়তে পারে, অন্যদিকে স্বর্ণ ও মূল্যবান সম্পদের বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।



