লেখকঃ নুজহাত জাহান নিহান
বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে কর্মরতদের অর্ধেকের বেশি মনে করেন, আর্থিক দুশ্চিন্তা তাদের কাজের দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মেটলাইফ পরিচালিত Employee Benefit Trends Study (EBTS) প্রতিবেদনে।
দেশের পোশাক, ব্যাংক, টেলিকম, এনজিও, এফএমসিজি ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতের ৭০০এরও বেশি কর্মীর ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ কর্মী আর্থিক চাপের কারণে উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছেন, আর ৪০ শতাংশ বলছেন টাকার চিন্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জরিপে আরও বলা হয়, যদিও ৭৮ শতাংশ কর্মী চাকরিতে সন্তুষ্ট, তবু কেবল ৪২ শতাংশ তাদের প্রতিষ্ঠানকে অন্যদের কাছে সুপারিশ করতে আগ্রহী। গবেষকরা মনে করেন, এটি কর্মীদের সন্তুষ্টি ও সম্পৃক্ততার মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা নির্দেশ করে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশ কর্মী নিজেদের আর্থিকভাবে অনিরাপদ মনে করেন এবং ৫৩ শতাংশের কোনো অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনা নেই। তাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ মনে করেন, নিয়োগকর্তাদের উচিত কর্মীদের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।
মেটলাইফের প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা পর্যাপ্ত সুবিধা পাচ্ছেন, তারা দ্বিগুণ বেশি উৎপাদনশীল ও বিশ্বস্ত। কিন্তু এখনো মাত্র এক-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানই স্বাস্থ্য, জীবনবীমা বা wellness program–এর মতো সুবিধা দিচ্ছে।
এছাড়া, ৮৩ শতাংশ তরুণ কর্মী বলেছেন, তারা কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা বা flexibility সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এখনো ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্য বিমা বা নিরাপত্তা সুবিধাতেই সীমাবদ্ধ।
মেটলাইফ বাংলাদেশ-এর সিইও আলা আহমদ বলেন, “কর্মীদের আর্থিক ও মানসিক সুস্থতা এখন দাতব্য কাজ নয়, এটি একটি ব্যবসায়িক কৌশল। আর্থিক চাপ ও সুবিধার ঘাটতি নীরবে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।”
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, সময়মতো কর্মী-কল্যাণে নজর না দিলে বাংলাদেশের ‘জনমিতিক সুযোগ’ (demographic dividend) ভবিষ্যতে ‘জনমিতিক বোঝা’ (demographic burden) হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ





