spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

কর্মচারীরাও হতে পারেন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর – জেনে নিন Employee Advocacy কীভাবে কাজ করে

লেখকঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম 

একবার ভাবুন তো, আপনি একটি নতুন স্মার্টফোন কিনবেন। একটি বিজ্ঞাপন দেখে কিনবেন, নাকি আপনার প্রযুক্তিপ্রেমী বন্ধুটির পরামর্শকে বেশি গুরুত্ব দেবেন? নিঃসন্দেহে, বন্ধুর পরামর্শই আপনার কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে। ঠিক এই বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে আজকের মার্কেটিং দুনিয়ার অন্যতম শক্তিশালী কৌশল  Employee Advocacy

Employee Advocacy কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Employee Advocacy হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি কোম্পানির কর্মীরা স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া বা নেটওয়ার্কে কোম্পানির প্রচার করেন। তারা কোম্পানির পণ্য, পরিষেবা, সংস্কৃতি বা সাফল্যের গল্পগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মীদের শেয়ার করা কন্টেন্ট কোম্পানির অফিসিয়াল চ্যানেলের তুলনায় ৮ গুণ বেশি এনগেজমেন্ট পায়। এছাড়াও, ৮৪% মানুষ বন্ধু ও পরিচিতদের সুপারিশে বেশি আস্থা রাখে।

Employee Advocacy বনাম Traditional Branding 

দিকTraditional BrandingEmployee Advocacy
প্রচারের মাধ্যমবিজ্ঞাপন, PR, মিডিয়াকর্মীদের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক
ব্যয়তুলনামূলক বেশিকম 
বিশ্বাসযোগ্যতাসীমিত অনেক বেশি
বার্তা কণ্ঠকর্পোরেট ভাষামানুষের কণ্ঠে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
এনগেজমেন্টকমঅনেক বেশি (User Generated)

আরও পড়ুন: Employee Experience কীভাবে বাংলাদেশের শীর্ষ কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর ব্যবসার গতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে?

Brand Ambassador হিসেবে কর্মীদের ভূমিকা

কর্মীরা যখন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন, তখন তাদের ভূমিকা শুধু কোম্পানির পোস্ট শেয়ার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা কোম্পানির ‘মানবিক মুখ’ হয়ে ওঠেন। তাদের প্রধান কাজগুলো হলো:

  • কোম্পানির সংস্কৃতি তুলে ধরা: কর্মীরা তাদের কাজের পরিবেশ, সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক এবং কোম্পানির মূল্যবোধ সম্পর্কে পোস্ট করে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেন।
  • রিভিউ দেওয়া: তারা পণ্য বা পরিষেবা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেন।
  • বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা: নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তারা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি কোম্পানির ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেন।

কোম্পানির দৃষ্টিভঙ্গি: কেন ও কীভাবে এটি গড়ে তোলে?

কোম্পানিগুলো Employee Advocacy গড়ে তোলার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি একটি cost-effective মার্কেটিং কৌশল। দ্বিতীয়ত, এটি কর্মীদের engagement বৃদ্ধি করে। তৃতীয়ত, এটি কোম্পানির reputation management এ সহায়তা করে।

কোম্পানিগুলো এটি গড়ে তোলার জন্য প্রথমে একটি positive work culture তৈরি করে। তারপর কর্মীদের জন্য training program আয়োজন করে যাতে তারা সঠিক উপায়ে কোম্পানির ব্র্যান্ড message তুলে ধরতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, Microsoft তাদের কর্মীদের জন্য “Microsoft Life” নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যেখানে তারা কোম্পানির গল্প শেয়ার করতে পারে।

কর্মীদের দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিধা

কর্মীরা Employee Advocacy থেকে যেসব সুবিধা পায়:

  • ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড উন্নয়ন: নিজেদের পেশাদার পরিচয় শক্তিশালী করা
  • নেটওয়ার্কিং সুবিধা: পেশাদার সংযোগ বৃদ্ধি
  • দক্ষতা উন্নয়ন: ডিজিটাল মার্কেটিং ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি
  • চাকরির নিরাপত্তা: কোম্পানির সাফল্যে অবদান রাখার মাধ্যমে
  • কর্মসংস্থান সুযোগ: ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিতি বৃদ্ধি

কীভাবে একটি সফল Employee Advocacy প্রোগ্রাম তৈরি করবেন?

১. লক্ষ্য ঠিক করুন: প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য কী হবে তা নির্ধারণ করুন (যেমন: ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়ানো, লিড তৈরি করা)।

২. স্বেচ্ছাসেবী খুঁজুন: আগ্রহী ও উৎসাহী কর্মীদের নিয়ে ছোট করে প্রোগ্রাম শুরু করুন। জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবেন না।

৩. প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা দিন: কী শেয়ার করতে হবে, কীভাবে করতে হবে, এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে, তার একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা দিন।

৪. সহজে শেয়ারযোগ্য কনটেন্ট তৈরি করুন: ব্লগ, ছবি, ভিডিও বা সাফল্যের গল্প তৈরি করে দিন, যাতে কর্মীরা সহজেই শেয়ার করতে পারেন।

৫. স্বীকৃতি দিন: যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের পুরস্কৃত করুন বা জনসমক্ষে প্রশংসা করুন। এটি অন্যদের উৎসাহিত করবে।

বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক কিছু বাস্তব উদাহরণ

Starbucks

Starbucks একটি সুসংগঠিত কর্মী অ্যাডভোকেসি প্রোগ্রাম চালু করেছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনলাইন ইন্টারঅ্যাকশন ৬১% এবং ইতিবাচক ব্র্যান্ড সেন্টিমেন্ট ৩৯% পর্যন্ত বেড়েছে।

Adobe

Adobe তাদের কর্মীদের কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করতে সক্রিয়ভাবে উৎসাহ দেয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ট্রাফিক ও কর্মী এনগেজমেন্ট উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশেও এই ধারা বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যেমন bKash বা Grameenphone-এর কর্মীদের প্রায়ই LinkedIn বা Facebook-এ কোম্পানির নতুন পণ্য, অর্জন বা টিম অ্যাক্টিভিটির ছবি ও পোস্ট শেয়ার করতে দেখা যায়। 

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অনীহা বা ভুল কনটেন্ট শেয়ারের ঝুঁকি হলো প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর সমাধানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নীতিমালা এবং ফিডব্যাক সিস্টেম তৈরি করা যায়। এছাড়া, সময় সাশ্রয়ী টুল ব্যবহার করলে কর্মচারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা 

ডিজিটাল যুগে Employee Advocacy আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অটোমেশন কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ারিংকে আরও সহজ করবে। নতুন প্রজন্মের কর্মচারীরা (Gen Z) সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকায় এই কৌশলের প্রভাব আরও বাড়বে।

Employee Advocacy শুধু একটি মার্কেটিং কৌশল নয়, এটি কোম্পানি ও কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার একটি সেতু। এটি ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং কর্মচারীদের পেশাগত উন্নতিতে সহায়তা করে। আপনার কোম্পানিতে এই কৌশল বাস্তবায়ন করে ব্র্যান্ডের গল্পকে আরও শক্তিশালী করুন।

আরও পড়ুন: কোম্পানি বড় হলে কি শ্রমিকদের বেশি সুবিধা পাওয়া উচিত?

প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: Employee Advocacy কি ছোট কোম্পানিতেও কার্যকর?
উত্তর: হ্যাঁ, বরং ছোট কোম্পানিতে এটি খুবই কার্যকর কারণ বাজেট সীমিত হলেও কর্মীরা নিজেরা ব্র্যান্ডের মুখ হয়ে উঠতে পারে।

প্রশ্ন: সবাই কি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হতে পারে?
উত্তর: সবাই পারে না, কিন্তু সঠিক গাইডলাইন, অনুপ্রেরণা ও সুযোগ পেলে বেশিরভাগ কর্মীই প্রস্তুত হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: কর্মীদের ব্যক্তিগত প্রোফাইল ব্যবহার কি প্রাইভেসি লঙ্ঘন?
উত্তর: নয়, যদি এটি স্বেচ্ছামূলক হয় এবং ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ 

  1. https://blogs.vorecol.com/blog-employee-advocacy-programs-and-their-impact-on-branding-38019
  2. https://www.recruiterslineup.com/employee-advocacy-meaning-benefits-and-examples/
  3. https://www.poppulo.com/blog/tips-to-overcome-employee-advocacy-challenges

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article

“আমাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়নি, পারিবারিক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ছুটি নিয়েছি”—দাবি ওমর ফারুক খাঁনের

ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২৬: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ—এমন তথ্য উঠে এসেছে...

ছেঁড়া ও অযোগ্য নোট নিয়ে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২৬: দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে ছেঁড়া, ক্ষতিগ্রস্ত ও ময়লা নোট গ্রহণ এবং বিনিময়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।...

EDF তহবিল ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা: ব্যবসায়ীদের আশ্বাস বাংলাদেশ ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (Export Development Fund - EDF) ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে...

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা এক মঞ্চে—৮ম বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস

লেখক: নিশি আক্তারঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬ । দেশের খুচরা (রিটেইল) খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬...