ঢাকা | ১ মার্চ
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সরকার ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং পদ্ধতি চালু করছে। নতুন “ফ্যামিলি কার্ড” উদ্যোগের আওতায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিত করতে তথ্যভিত্তিক স্কোরিং ব্যবস্থাই হবে মূল ভিত্তি।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন জানান, পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। এটি ব্যক্তি নয়, বরং পুরো পরিবারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো।
কীভাবে নির্ধারণ হবে যোগ্যতা?
গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে PMT স্কোর নির্ধারণ করা হবে। ১ম, ২য় ও ৩য় ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে স্বচ্ছভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
সরাসরি নগদ সহায়তা, জি-টু-পি পদ্ধতিতে
পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে G2P (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারে ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে — যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক সিদ্ধান্তগ্রহণে নারীর ভূমিকা বাড়াবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
১৪ ইউনিয়নে পাইলট, লক্ষ্য ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ
প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি ইউনিয়নে ১০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে নগর বস্তি এলাকা, শিল্পাঞ্চল, পার্বত্য অঞ্চল, হাওর এলাকা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
নীতিনির্ধারকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও ডেটাভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বাজেট দক্ষতা বাড়াবে এবং অপচয় কমাবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হারও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




