বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের জন্য চীনের BYD Auto Industry Company Limited–এর সঙ্গে চুক্তি করেছে Runner Automobiles PLC। ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
কোম্পানিটি জানায়, শেনজেনভিত্তিক বিওয়াইডির সঙ্গে একটি ‘মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচার’ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পর্ষদ সম্মতি দিয়েছে। শেনজেন চীনের একটি প্রধান প্রযুক্তি ও শিল্পনগরী, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিওয়াইডি এই শহর থেকেই তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
‘মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচার’ চুক্তি বলতে এমন একটি কাঠামোগত সমঝোতাকে বোঝায়, যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান মূল প্রযুক্তি, ডিজাইন, যন্ত্রাংশ ও উৎপাদন সহায়তা প্রদান করে এবং অন্য প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে সেই পণ্য সংযোজন ও উৎপাদন করে। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে সাধারণত প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণ সহজ হয়।
চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে দেশে গাড়ি সংযোজন (assembly) ও পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের (manufacturing) পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে যন্ত্রাংশ আমদানি করে স্থানীয়ভাবে সংযোজন কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশে আধুনিক ইলেকট্রিক যানবাহন (EV) প্রযুক্তির বিস্তার ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল (supply chain) গড়ে ওঠার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সহায়ক শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা হিসেবে বিওয়াইডির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে রানার কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সরকারের পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারের নীতির সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। Dhaka Stock Exchange–এর তথ্য অনুযায়ী, রানারের শেয়ারদর ২.৯৩ শতাংশ বেড়ে ৩৫ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে নীতিগত সহায়তা, চার্জিং অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর ভবিষ্যৎ অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্রঃ TBS



