দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর Robi Axiata ২০২৫ সালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৯৩৭.১ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বছরের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ৩৩.৩ শতাংশ। সীমিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ‘ডিসিপ্লিনড ক্যাপিটাল অ্যালোকেশন’ ও কার্যকর পরিচালন দক্ষতার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সীমিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি, শক্তিশালী ডেটা আয়
২০২৫ সালে রবি’র মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৯,৯৯২.২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ০.৪ শতাংশ বেশি।
তবে ভয়েস সেবা থেকে আয় ২.৯ শতাংশ কমলেও ডেটা সেবা থেকে আয় বেড়েছে ৫.১ শতাংশ। ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতি ব্যবহারকারীর ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার ফলে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
এটি রবি’র টানা ষষ্ঠ বছরের লাভজনকতা।
লভ্যাংশ ঘোষণা
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ১৭.৫ শতাংশ (প্রতি শেয়ার ১.৭৫ টাকা) নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
বিনিয়োগ ও সরকারি কোষাগারে অবদান
২০২৫ সালে রবি’র মোট মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) ছিল ১,৩০৪.১ কোটি টাকা। একই সময়ে বিভিন্ন কর ও ফি বাবদ সরকারি কোষাগারে পরিশোধ করেছে ৬,২০১.১ কোটি টাকা, যা কোম্পানির মোট রাজস্বের প্রায় ৬২ শতাংশ।
ব্যবস্থাপনা বলছে, এই উচ্চ করহার টেলিকম খাতের অগ্রগতিতে বড় চাপ তৈরি করছে।
গ্রাহকভিত্তি ও ৪জি বিস্তার
২০২৫ সালের শেষে রবি’র সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫.৭৪ কোটি। এর মধ্যে ডেটা গ্রাহক ৪.৪৫ কোটি এবং ৪জি গ্রাহক ৩.৯৯ কোটি।
মোট সক্রিয় গ্রাহকের ৭৭.৫ শতাংশ ডেটা ব্যবহারকারী এবং ৬৯.৫ শতাংশ ৪জি ব্যবহারকারী—যা দেশের অপারেটরদের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুপাত বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।
২০২৫ সালে দেশের ৪০টি জেলায় নতুন ৪জি সাইট স্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে, বিশেষ করে অনুন্নত ও কম সেবাপ্রাপ্ত এলাকায়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মন্তব্য
রবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ শাতারা বলেন, ভয়েস আয়ে ধারাবাহিক পতন সত্ত্বেও ডেটা খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও প্রতিকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গ্রাহকদের ব্যয় সীমিত করেছে, ফলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচালন দক্ষতা ও সঠিক মূলধন বরাদ্দ কৌশল কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করেছে। নেটওয়ার্ক বিনিয়োগকে চাহিদা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রাখার কৌশলই মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, সক্রিয় গ্রাহকের প্রায় ৭০ শতাংশ ৪জি ব্যবহারকারী হওয়ায় প্রযুক্তি-সচেতন গ্রাহকদের কাছে রবি এখন স্বাভাবিক পছন্দে পরিণত হচ্ছে।




