spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের ৫টি ব্যবসায় আইডিয়া

লেখকঃ বাহারিন আক্তার অন্তরা

বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক যুবক চাকরির পিছনে না ছুটে নিজের মালিকানায় ব্যবসা দাঁড় করাচ্ছে। যা অন্যান্য যুবকের কর্মসংস্থানে এবং স্ব-নির্ভরতার পথ সৃষ্টি করেছে। এতে অনেক যুবক পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে।

অল্প পুঁজিতে ৫টি ব্যবসায়ের তালিকা

বর্তমানে তরুণদের মধ্যে অল্প পুঁজিতে ব্যবসায় করার ধারণাটি বিপুলভাবে জেগে উঠেছে। এতে যেমন পুঁজিও লাগছে অল্প তেমনি প্রফিট ও হচ্ছে বেশি।

নিম্নে এমন পাঁচটি ব্যবসায় এর তালিকা দেওয়া হলোঃ

১. অনলাইন বিজনেস

বর্তমানে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায় একটি জনপ্রিয় ব্যবসায় হয়ে উঠেছে। এতে যেমন গ্রাহকের সুবিধাও বেড়েছে তেমনি উদ্যোক্তার লাভও হচ্ছে। ফেইসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম পেজ, ওয়েবসাইটে পেজ খুলে এই ব্যবসায় করা যায়। এতে কোনো নির্দিষ্ট দোকান ভাড়া দিতে হয় না যার জন্য এটি একটি সুবিধাজনক ব্যবসায়। নিজের ঘরে বসেই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা যায়। বিভিন্ন পণ্যের উপর ভিত্তি করে এই ব্যবসায় গড়ে ওঠে। যেমনঃ মেকাপ আইটেমস, জুয়েলারি, পোশাক, কাস্টমাইজ ফোনের কভার, হ্যান্ডিক্রাফট ইত্যাদি। এই ব্যবসায় করার জন্য একটি ফোন, ইন্টারনেট সংযোগ, স্বল্প মূলধন (১০,০০০-৩০,০০০) টাকা ইত্যাদির প্রয়োজন হয়।

২. হোমমেড ফুড আইটেম

বর্তমানে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে হোমমেড ফুড বানিয়ে বিক্রয় করা যায়। এতে গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী বাসায় সেই খাবার তৈরি করে তাদের ঠিকানায় পাঠানো হয়। এই ব্যবসাটি ও খুব লাভ জনক। হোমমেড ফুড আইটেম এর মধ্যে রয়েছে কাস্ট মাইজ কেক, কুকিজ, চকলেট, ফ্রোজেন আইটেম, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি। এক্ষেত্রেও একটি ভালো মানের ফোন, ইন্টারনেট সংযোগ, স্বল্প মূলধন (৫,০০০- ২০,০০০) টাকা থাকলেই শুরু করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে কাস্টমার ধরে রাখতে হলে অবশ্যই খাবার বানানো সর্ম্পকে উপযুক্ত দক্ষতা থাকতে হবে।

৩. অনলাইনে বিভিন্ন জিনিস শেখানো

বর্তমানে অনলাইন ভিত্তিক বিষয়গুলো খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ এক্ষেত্রে যেহেতু আলাদা কোনো ঘর, অফিস বা কোনো দোকানের প্রয়োজন হচ্ছে না তাই অনলাইনের অনেক প্রডাক্ট স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স করানো যেতে পারে। যেমন অনলাইনে কোনো কোচিং এর ক্লাস, সিলাইয়ের কাজ শেখানো, খাবার বানানো শেখানোর কাজ ইত্যাদি। অনেক স্বল্প মূল্যে এসব কোর্স করা যায়। এতে তেমন কোনো মূলধন ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ে না।

৪.ফাস্ট ফুড কর্ণার বা জুস বার

আমাদের দেশে মানুষজন বেশ খাদ্যরসিক, তাই খাবার ব্যবসার চাহিদা সব সময়ই থাকে। জনসমাগম যেখানে বেশি সেখানে রাস্তার পাশে ছোট একটি দোকান বা ভ্যান ভাড়া করে শুরু করা যেতে পরে। বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড আইটেম (যেমন: চটপটি, ফুচকা, বার্গার, রোল) বা স্বাস্থ্যকর জুস/স্মুদি বিক্রি করা যেতে পারে। একা অথবা কোনো বন্ধু বা আত্মীয় পরিজনদের সাথে নিয়ে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়টি শুরু করা যেতে পরে। এতে মূলধন লাগতে পারে (৩০,০০০-৮০,০০০) টাকা।

৫. ফটোগ্রাফি বা মেকআপ আর্টিস্ট

যদি আপনার এই বিষয়ে দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ থাকে, তবে সামান্য কিছু সরঞ্জাম কিনে ইভেন্ট বা অনুষ্ঠানের জন্য সার্ভিস দেওয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো সেবা প্রদান জরুরি। ফটোগ্রাফীর ক্ষেত্রে একটি ভালো মানের ক্যামেরা প্রয়োজন হবে। এবং মেকাপ আর্টিস্ট এর ভালোমানের মেকাপ সামগ্রীর প্রয়োজন পড়বে। এক্ষেত্রে মূলধনের প্রয়োজন পড়তে পারে (৫০,০০০-১,২০,০০০) টাকা।

কিভাবে স্বল্প পরিসরে ব্যবসায় শুরু করা যায়?

ব্যবসা শুরু করা অনেকেরই স্বপ্ন, কিন্তু বড় আকারের পুঁজি বা বিশাল পরিকল্পনা প্রায়শই সেই স্বপ্নে বাধা দেয়। তবে, বর্তমান যুগে স্বল্প পরিসরে এবং সীমিত বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু করার অসংখ্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, দৃঢ় ইচ্ছা এবং কার্যকর কৌশল অবলম্বন করলে ছোট পরিসরের উদ্যোগও ভবিষ্যতে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। স্বল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু করার জন্য সুচিন্তিত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা আবশ্যক। স্বল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু করার একটি ধাপে ধাপে নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলোঃ

১. দক্ষতা যাচাই

একজন ব্যক্তি ঠিক কোন বিষয়ে পারদর্শী সেটি নির্ধারণ করতে হবে। সেই অনুযায়ী ব্যবসায় এর যাবতীয় পরিকল্পনা করতে হবে। যেমন কেউ কেক বানাতে পারদর্শী আবার কেউ ভালো ছবি তুলতে পারে। যে যেই বিষয়ে পারদর্শী তাকে ঠিক সেই বিষয় নির্বাচন করতে হবে।

২. জনগণের চাহিদা মূল্যায়ন

বর্তমানে গ্রাহক কি চায় তা মূল্যায়ন করে ব্যবসা করা উচিত। কারণ এমনিতেই স্বল্প পরিসরের ব্যবসায় সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া যাবে না। তাই যেটি গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় সেটির ব্যবসায় করাই সর্বোচ্চ লাভজনক বলে আমি মনে করি। এতে সবসময়ই কিছুনা কিছু এ

আয় করা যায়।

৩. পরিকল্পনা প্রণয়ন

যে ব্যবসায়টি করবে বলে ঠিক করা হবে তার জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। পরিকল্পনা ব্যতীত কোনো কাজকেই লক্ষ্যপানে পরিচালনা করা যায় না। তাই সঠিকভাবে বিষয়টিকে নিয়ে ভাবতে হবে, সে অনুযায়ী ধীরে ধীরে আগাতে হবে। যেমনঃ একজন ব্যক্তি অনলাইনে মেকাপ আইটেম বিক্রয় করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে প্রথমে তাকে অবশ্যই একটি ভালো ফোন জোগাড় করতে হবে। প্রয়োজনে প্রোডাকটগুলোর ভালোমানের ছবি তুলে তা পেজ বা ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। মূলধন নিয়ে ভাবতে হবে। মূলধন কোথায় কোথায় কিভাবে বিনিয়োগ করবে সেটি ভাবতে হবে।

৪. সীমিত পুঁজির ব্যবস্থা

ব্যবসায় এর ভিত্তি হচ্ছে পুঁজি বা মূলধন। তাই কোনো ব্যবসায় শুরুর আগে অর্থ হাতে রাখতে হবে। নিজের অর্থ কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজনে আত্মীয় -পরিজনদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

৫. স্থান নির্বাচন

ব্যবসায় করার জন্য স্থান নির্বাচন জরুরি। 

অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা হলে বা ছোট পরিসরের সার্ভিস হলে প্রথমদিকে বাসা থেকেই কাজ শুরু করা যেতে পারে। এতে দোকানের ভাড়া বাবদ বড় খরচ বেঁচে যাবে।

৬. প্রচার

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা সম্পর্কে প্রচার করা যেতে পারে। এটি খুব কম খরচে করা যায়।

উপসংহার

স্বল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু করা একটি চ্যালেঞ্জিং কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ যাত্রা। সঠিক পরিকল্পনা, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সহায়তায় যেকোনো ব্যক্তি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে এবং একটি ছোট উদ্যোগকে সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. কেনো যুবকরা এখন ব্যবসার প্রতি ঝুঁকছে?

উত্তরঃ কর্মসংস্থানের অভাব, আর্থিক স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ থাকায় যুবকরা ব্যবসার প্রতি ঝুঁকছে।

২. বর্তমানে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায় খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণ কী?

উত্তরঃ কম বিনিয়োগে শুরু করার সুযোগ, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং ভৌগোলিক সীমাহীন গ্রাহক বেসের কারণে অনলাইন ব্যবসা জনপ্রিয়।

৩. কিভাবে স্বল্প পরিসরে ব্যবসায় শুরু করা যায়?

উত্তরঃ নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এবং খুব কম মূলধন দিয়ে স্বল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু করা যায়।

৪. ব্যবসায় শুরুর পূর্বে কেনো দক্ষতা যাচাই জরুরি?

উত্তরঃ সঠিক ব্যবসায়িক ধারণা নির্বাচন, কার্যকরী পরিচালনা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য দক্ষতা যাচাই জরুরি।

৫. ব্যবসায় শুরুর পূর্বে পরিকল্পনা প্রণয়ন কেনো জরুরি?

উত্তরঃ ব্যবসার লক্ষ্য নির্ধারণ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article

মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় বার্ষিক কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার

দ্য ডেইলি কর্পোরেট সরকার প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল এবং ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax) ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত...

বাজার থেকে আরও ৪৫ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দ্য ডেইলি কর্পোরেট ডেস্ক Bangladesh Bank বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে। রোববার (১১ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের...

উদ্যোক্তা হওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

লেখক: আরেফিন রানা পিয়াস বর্তমান সময়ে উদ্যোক্তা হওয়া শুধু একটি পেশা নয়, বরং এটি নিজের স্বপ্ন পূরণ, নতুন কিছু সৃষ্টি এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার...

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটের সম্ভাবনা

লেখকঃ মালিহা মেহেজাবিন ফ্রিল্যান্সিং কী? ফ্রিল্যান্সিং হলো এমন একটি কাজের পদ্ধতি যেখানে একজন ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরি না করে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য কাজ...