লেখকঃ নাওমী ইসলাম
Bata Shoe কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ঘোষণা করেছে ফারিয়া ইয়াসমিনকে নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে । তিনি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত এই বহুজাতিক জুতোর কোম্পানির প্রথম নারী এবং প্রথম বাংলাদেশ এর স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগ কোম্পানির নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ এবং ব্র্যান্ড পুনরুজ্জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ফারিয়া আগামী ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যেখানে ডেবাব্রত মুখার্জী তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন যিনি অন্য একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেবেন।
ফারিয়া ইয়াসমিনের পটভূমি ও অভিজ্ঞতা
ফারিয়ার ২৩ বছরেরও অধিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্র্যান্ড মার্কেটিং, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট এবং ব্যবসা পরিচালনায়, যা বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় অর্জিত। তিনি আগে এ সি আই পিএলসি-তে চীফ বিজনেস অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার আগেও রেকিট বেনকাইজার, মারিকো, ও নেস্টলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অন্যতম শক্তি হল ব্র্যান্ড পরিচালনায় পারদর্শিতা এবং ব্যবসা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, যা বাটার বর্তমান পরিস্থিতিতে কোম্পানিকে সহায়তা করবে।
বাটার সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থা
২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাটার আর্থিক ফলাফল কিছুটা উদ্বেগজনক। ৩০ জুলাই প্রকাশিত আর্থিক বিবৃতিতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানি ৯.৬৪ কোটি টাকা লস করেছে। এ সময়ের লস পার শেয়ার দাঁড়ায় ৭.০৫ টাকা, যা আগের বছরের সমান সময়ের ১৩.৭৩ টাকা আয়ের বিপরীতে। তদুপরি, বাটার আয় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৫৮ কোটি টাকা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আয় ৫১৪.৬৬ কোটি টাকায় নামা, যা গত বছরের সমান সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। নিট মুনাফাও কমে ২৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৭.১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টরের গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ
ফারিয়া ইয়াসমিনের নিয়োগ আসে এমন সময়ে যখন বাটা একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশের মুখোমুখি। তার নেতৃত্বে কোম্পানি ব্র্যান্ডের পুনরুজ্জীবন এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পরসূর্য সৃষ্টির প্রত্যাশা রয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং ব্যবসায়িক কৌশলগত দক্ষতা বাটার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সহায়ক হবে।
বাটা এর বাংলাদেশে অবদান
বাটা শু কোম্পানি বাংলাদেশের জুতা শিল্পে একটি দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে। ১৯৬২ সালে শুরু হওয়া এই কোম্পানির টঙ্গী ও ধামরাইয়ে দুটি উৎপাদন কারখানা রয়েছে, যেখানে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১.৬ লাখ জুতা পর্যন্ত। বার্ষিক বিক্রয় প্রায় তিন কোটির পেয়ার পর্যন্ত উন্নীত করেছে এই প্রতিষ্ঠান। বাটার মুল প্রতিষ্ঠান বাফিন (নেদারল্যান্ড) বিএভি, যা কোম্পানির ৭০ শতাংশ শেয়ার মালিকানাধীন, কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের অঙ্গ হিসেবে এটি ব্যাপক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে।
ফারিয়া ইয়াসমিনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে নিয়োগ এবং বাটার সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রেক্ষিতে স্পষ্ট যে, বাটার নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবসায় পুনঃসংগঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ কোম্পানিটির উন্নয়ন এবং বাজারে ফের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তুলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আরো পড়ুনঃ কর্মীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টে কর্পোরেট বিনিয়োগ—কারা এগিয়ে? – The Daily Corporate
কিছু সাধারণ ব্যবসায়িক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ফারিয়া ইয়াসমিন কে?
উত্তর: ফারিয়া ইয়াসমিন বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর, যিনি কোম্পানিতে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
প্রশ্ন: তার নিযুক্তি কখন থেকে কার্যকর?
উত্তর: তিনি ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে এই দায়িত্ব নেবে।
প্রশ্ন: বাটার সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থা কেমন?
উত্তর: ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাটা ৯.৬৪ কোটি টাকা ক্ষতি করেছে এবং আয় ৪০ শতাংশ কমেছে।
প্রশ্ন: বাটার নেতৃবৃন্দ পরিবর্তনের কারণ কী?
উত্তর: এটি কোম্পানির নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ এবং ব্র্যান্ড পুনর্বাসনের অংশ, বিশেষ করে ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়।
প্রশ্ন: বাটার বাজারে অবস্থান কেমন?
উত্তর: বাটা বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হলেও সাম্প্রতিক আর্থিক দিক থেকে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
প্রশ্ন: বাটার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
উত্তর: নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ব্র্যান্ড পুনর্জাগরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র




