লোখকঃ নুজহাত জাহান নিহান
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই আগুন দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সের ওয়ার্কশপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা পাশের কুরিয়ার ও ডেঞ্জারাস গুডস ওয়্যারহাউজে ছড়িয়ে পড়ে। সাত ঘণ্টা চেষ্টা শেষে রাত নয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ৩৫টি ইউনিট।
আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে ধাক্কা
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কবির আহমেদ খান বলেন, “সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা কঠিন। তবে আমদানি ও রপ্তানিতে এর সামগ্রিক প্রভাব এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।”
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলি শামীম এহসানও একই শঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, “এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুধু পণ্য হারানোর ক্ষতি নয়, উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানির পুরো শৃঙ্খলকেই ব্যাহত করে।”
বিমান চলাচলে বিঘ্ন
অগ্নিকাণ্ডের সময় বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চট্টগ্রাম, সিলেট ও কলকাতা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। রাত নয়টার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় বিমান চলাচল।
পরোক্ষ ক্ষতি ও ভাবমূর্তি সংকট
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের সরাসরি ক্ষতি ছাড়াও পরোক্ষ ক্ষতি আরও বড় হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানি খাত, ফরোয়ার্ড ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ব্যবসা, এমনকি দেশের এভিয়েশন শিল্পের ভাবমূর্তিও।
তদন্ত ও করণীয়
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সমন্বয় ঘাটতি নিরূপণ করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।





