spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আসছে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস

লেখকঃ নুজহাত জাহান নিহান

ঢাকার দীর্ঘদিনের অগোছালো ও অনিয়ন্ত্রিত বাস ব্যবস্থাকে কাঠামোগত সংস্কারের আওতায় আনতে সরকার একটি বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬৭১ কোটি টাকার একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে রাজধানীতে ধাপে ধাপে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার গণপরিবহন খাতে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব মডেল চালু হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থায় বাস পরিচালনায় বেসরকারি অপারেটর যুক্ত থাকলেও ভাড়া নির্ধারণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং রাজস্ব সংগ্রহ থাকবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। অপারেটরদের জন্য চালু করা হবে নির্দিষ্ট হারে পরিশোধ বা ফিক্সড পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর ফলে যাত্রীসংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা, বেপরোয়া চালনা ও একই রুটে অতিরিক্ত বাস নামানোর প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পুরোনো ও পরিবেশদূষণকারী ডিজেলচালিত বাস ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। তার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বাসের জন্য চার্জিং সুবিধাসহ আধুনিক ডিপো নির্মাণ, স্মার্ট টিকিটিং ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও সেবা মান উন্নয়নে নির্দিষ্ট সময়সূচি, রুটভিত্তিক পরিচালনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।

ঢাকার বাস খাত দীর্ঘদিন ধরেই বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও দূষণের জন্য সমালোচিত। অপরিকল্পিত রুট, পুরোনো যানবাহন এবং দুর্বল তদারকির কারণে যাত্রী ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি নগরের বায়ুদূষণ পরিস্থিতিও খারাপ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈদ্যুতিক বাসভিত্তিক এই নিয়ন্ত্রিত মডেল বাস্তবায়িত হলে যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংক–সমর্থিত এই তহবিলকে ঢাকার গণপরিবহন সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এই মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের কাঠামো চালু করার সুযোগ তৈরি হবে। বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা বাস খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে এটি একটি বাস্তব ও কাঠামোগত অগ্রগতির সূচনা।

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্নঃ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তরঃ এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার বাস ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করা এবং দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করা।

প্রশ্নঃ নতুন ব্যবস্থায় বাসের ভাড়া কে নির্ধারণ করবে?

উত্তরঃ বাসের ভাড়া ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অপারেটররা নির্দিষ্ট হারে পারিশ্রমিক পাবেন।

প্রশ্নঃ বৈদ্যুতিক বাস চালুর ফলে কী ধরনের উপকার হবে?

উত্তরঃ এতে জ্বালানি ব্যয় ও বায়ুদূষণ কমবে, যাত্রী নিরাপত্তা বাড়বে এবং নগর পরিবহনে আধুনিকতা আসবে।

প্রশ্নঃ পুরোনো ডিজেল বাসগুলোর কী হবে?

উত্তরঃ প্রকল্পের আওতায় ধাপে ধাপে পুরোনো ও দূষণকারী ডিজেল বাস বাতিল বা স্ক্র্যাপ করা হবে।

প্রশ্নঃ এই মডেল কি শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে?

উত্তরঃ প্রাথমিকভাবে ঢাকায় চালু হলেও সফল হলে অন্যান্য বড় শহরে এই মডেল সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

বিশ্বব্যাংক – বাংলাদেশে নগর পরিবহন ও ই-মোবিলিটি উদ্যোগ

https://www.worldbank.org/en/country/bangladesh/brief/transport

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড – ঢাকার বাস খাত সংস্কার ও বৈদ্যুতিক বাস পরিকল্পনা

https://www.tbsnews.net/bangladesh/transport

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় – গণপরিবহন নীতিমালা

https://www.rthd.gov.bd

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

বাংলাদেশ–মিয়ানমার–চীন অর্থনৈতিক করিডোরঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত, নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ?

লেখকঃ মুসাররাত খান চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত...

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে, বিশ্বব্যাংকের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

ঢাকা: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪৫০ মিলিয়ন ডলার) অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়ন ফাইন্যান্সিয়াল...

প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ সুকুক চালু করল সরকার

ঢাকা: দেশের ইসলামী অর্থায়ন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি শরিয়াহভিত্তিক বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক (Short Term BGIS) চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ...

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা: দেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ বশির উদ্দিন। মঙ্গলবার...