নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে বাস্তবে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) দেশের প্রথম হাইটেক পার্ক কালিয়াকৈর পরিদর্শন করে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের অগ্রগতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা পর্যালোচনার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে পার্কটিতে প্রায় ৬২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি গুগল, মেটা ও টিকটকের মতো বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একটি মার্কিন কোম্পানির উদ্যোগে নির্মাণাধীন এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি জানান, এআই ডেটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
৮৫ প্রতিষ্ঠান পেয়েছে জায়গা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এখন পর্যন্ত ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্লট বা জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ৪০টি ইতোমধ্যে উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে। আরও ২৮টি প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের কাজ করছে এবং ১৭টি প্রতিষ্ঠান শিগগির নির্মাণকাজ শুরু করবে।
পার্কটির মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার এখন পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন কোম্পানির বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।
মন্ত্রী বলেন, একটি কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক থেকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
মোবাইল থেকে গাড়ি—বাড়ছে উৎপাদনের পরিধি
কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ও শিল্পপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এটিএম ও ক্যাশ রিসাইক্লার, ফাইবার অপটিক কেবল, অটোমোবাইল, আইওটি ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি সরঞ্জাম, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর ও অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স।
এছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, কিয়স্ক ও এটিএম মেশিনও উৎপাদন হচ্ছে। দুটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ডেটা সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে।
অটোমোবাইল খাতে হুন্দাইসহ তিনটি প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন খাতে অনার ও শাওমিসহ তিনটি এবং ল্যাপটপ খাতে দুটি প্রতিষ্ঠান পার্কটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগে জোর
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের আওতায় হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বিনিয়োগ আকর্ষণে মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ও কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর ভ্যাট সুবিধা এবং অ্যাসেম্বলার ও নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত সুবিধার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নত করা গেলে দেশে প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা কমবে, রপ্তানি সম্প্রসারিত হবে এবং দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
২০০৪ সালে অনুমোদন
দেশের প্রথম হাইটেক পার্ক হিসেবে কালিয়াকৈর প্রকল্পটি ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২৩১ দশমিক ৬৫ একর জমির ওপর অনুমোদন পায়। পরে ২০১৬ সালে এর সঙ্গে আরও ৯৭ দশমিক ৩৩ একর জমি যুক্ত করা হয়।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পার্কটির বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।




