দ্য ডেইলি কর্পোরেট ডেস্ক
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সরকারের ইউরিয়া সার আমদানির অর্থায়নে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংককে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ দুই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউরিয়া আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার জন্য মোট ১,০০০ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চেয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ বিভাগকে দেওয়া চিঠিতে ব্র্যাক ব্যাংকের অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রাইম ব্যাংকের অনুকূলে আরও ৫০০ কোটি টাকা গ্যারান্টি দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিসিআইসি।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, সার আমদানি প্রক্রিয়ায় বেসরকারি ব্যাংক যুক্ত হলে আমদানির জন্য নতুন অর্থায়ন সুবিধা তৈরি হবে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমেই আমদানির বেশিরভাগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অর্থ বিভাগের ট্রেজারি অ্যান্ড ডেট ম্যানেজমেন্ট শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গ্যারান্টি দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতদিন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে সার আমদানির এলসি খুলত বিসিআইসি। নতুন দুই ব্যাংককে যুক্ত করার উদ্যোগ এসেছে এমন সময়ে, যখন আগের সার আমদানির ঋণ পরিশোধে চাপের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছে সার আমদানির বকেয়া ঋণ ছিল ৬ হাজার ৫৫৩.৬০ কোটি টাকা। এসব ঋণ দ্রুত পরিশোধ করা না হলে নতুন এলসি খোলার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২ লাখ টন ইউরিয়া আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন ব্যাংককে অর্থায়ন ব্যবস্থায় যুক্ত করে এলসি খোলার সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে বিসিআইসি।
একই সঙ্গে পুরোনো ঋণের চাপ কমাতে পিআইএফ (পোস্ট-ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিং) ঋণের মেয়াদ ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭২০ দিন বা দুই বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিআইসি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে এবং গ্যারান্টির মেয়াদও ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
বর্তমানে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জন্য সার আমদানিতে মোট ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি রয়েছে। এর সঙ্গে এবার ব্র্যাক ও প্রাইম ব্যাংকের জন্য আরও ১ হাজার কোটি টাকার গ্যারান্টির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে দেশের সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় ইউরিয়া উৎপাদন কমে আমদানিনির্ভরতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিসিআইসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪.৮০ লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করা হয়েছে।
দেশে বছরে ইউরিয়ার চাহিদা প্রায় ২৬-২৭ লাখ টন, যার মধ্যে ৮-১১ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি চাহিদা মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।




