দ্য ডেইলি করপোরেট ডেস্ক
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলী আফজালের পদ শূন্য ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে আলী আফজালকে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই তার নির্বাচিত পদটি শূন্য হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গতকালের আদেশটি উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমিন স্বাক্ষর করেছেন। আদেশের অনুলিপি রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
১৮০ দিন ঋণখেলাপি থাকলে পদ শূন্য
মন্ত্রণালয়ের আদেশে সংশ্লিষ্ট আইনের ২৩(১)(খ) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বিধান অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত পদধারী ব্যক্তি ঋণখেলাপি হওয়ার পর টানা ১৮০ দিন বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করলে তার পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে আলী আফজালের ঋণখেলাপি অবস্থার তথ্য পাওয়ার পর এই বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের আদেশে বকেয়া ঋণের পরিমাণ, ঋণখেলাপির সময়কাল কিংবা যে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কারণে তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালে রিহ্যাবের সভাপতি নির্বাচিত হন
আলী আফজাল কৃষিবিদ গ্রুপ বাংলাদেশের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত রিহ্যাব নির্বাচনে তিনি প্রগ্রেসিভ প্যানেল থেকে সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ২২ এপ্রিল তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তার সভাপতিত্বের মেয়াদে সংগঠনটি আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
পরিচালনা পর্ষদের অভিযোগও তদন্তাধীন
আলী আফজালের বিরুদ্ধে এর আগে রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদের একাংশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
চলতি বছরের ২৬ জুলাই সংগঠনটির ১০ জন পরিচালক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি ওই অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। আলী আফজালের ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টিই তার পদ শূন্য ঘোষণার মূল কারণ।
পদ হারালেও অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি
আলী আফজালের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং তার ঋণখেলাপি অবস্থার বিষয়টি দুটি পৃথক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের অভিযোগের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তার সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করেছে।
আলী আফজালের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে কি না বা তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার




