spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

কর্পোরেট জবের জন্য সেরা প্রেজেন্টেশন স্কিল

লেখকঃ বাহারিন আক্তার অন্তরা 

বর্তমান সময়ে প্রেজেন্টেশনের গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে কর্ম জীবন সকল ক্ষেত্রেই নিজের বক্তব্য এবং আইডিয়া গুলোকে সকলের নিকট তুলে ধরার জন্য প্রেজেন্টেশন অপরিহার্য। বর্তমান যুগে প্রেজেন্টেশন কেবল একটি কাজ নয়, বরং এটি দক্ষ যোগাযোগ, ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস এবং পেশাগত সাফল্যের একটি অপরিহার্য হাতিয়ার।

প্রেজেন্টেশন কী?

প্রেজেন্টেশন” বা “উপস্থাপনা” হলো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য, ধারণা বা বার্তার একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত উপস্থাপন যা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। এটি কেবল স্লাইড দেখানো বা বক্তৃতা দেওয়াই নয়, বরং এটি একটি প্রক্রিয়া যেখানে উপস্থাপক একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।  

সঠিক প্রস্তুতি, উপযুক্ত উপস্থাপনা কৌশল এবং শ্রোতাদের সাথে সংযোগ স্থাপন, এই তিনটির সমন্বয়েই একটি প্রেজেন্টেশন সফল হয়।

প্রেজেন্টেশনের উদ্দেশ্য কী?

প্রেজেন্টেশনের উদ্দেশ্য যোগাযোগের এক কার্যকর মাধ্যম। একটি প্রেজেন্টেশন কেবল কিছু তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যম নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকে সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য, যা কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সহায়তা করে। এর উদ্দেশগুলো হলোঃ

১. তথ্য প্রদান

তথ্য প্রদান প্রেজেন্টেশনের সবচেয়ে মৌলিক এবং প্রধান উদ্দেশ্য। প্রেজেন্টেশনে তথ্য প্রদান বলতে বোঝায় বক্তা কর্তৃক কোনো নতুন তথ্য, গবেষণা, পরিসংখ্যান, কাজের অগ্রগতি বা কোনো জটিল বিষয়কে সরলভাবে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরা। এর মাধ্যমে শ্রোতাদের নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়। 

২. অনুপ্রাণিত করা 

প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে “অনুপ্রাণিত করা” বলতে বোঝায় উপস্থাপনার মাধ্যমে শ্রোতাদের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা এবং কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করা। অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রেজেন্টেশনে নানা ধরনের কৌশল এবং বক্তব্য ব্যবহার করা হয়। 

৩. প্রভাবিত করা

প্রভাবিত করা বলতে বোঝায় উপস্থাপক বা বক্তা যখন তাঁর বক্তব্য, যুক্তি, বা তথ্যের মাধ্যমে শ্রোতাদের মনোভাব, বিশ্বাস বা আচরণ পরিবর্তন করতে সচেষ্ট হন। এর মূল লক্ষ্য হলো শ্রোতাদের এমনভাবে রাজি করানো যেন তারা বক্তার প্রস্তাবিত ধারণাটি গ্রহণ করে বা কাঙ্ক্ষিত কাজটি সম্পাদন করে। এটি কেবল তথ্য দেওয়ার মতো নিরপেক্ষ নয়, বরং এটি একটি লক্ষ্যভিত্তিকইচ্ছাকৃত প্রক্রিয়া।

৪. প্রশিক্ষণ দেওয়া

প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে “প্রশিক্ষণ দেওয়া” বলতে বোঝায় কোনো নতুন বিষয় সম্পর্কে হাতে কলমে শেখানো। এক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা, প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি শেখানো হয়। এর উদ্দেশ্য কেবল তথ্য দেওয়া নয়, বরং শ্রোতাদের জ্ঞানকে কাজে লাগানোর উপযোগী করে তোলা। এক্ষেত্রে শ্রোতাদের হাতে-কলমে শেখানো হয় এবং তাদের মধ্যে নতুন দক্ষতা সৃষ্টি করা হয়।

আরও পড়ুনঃবই থেকে নেতৃত্ব শেখার উপায়

কিভাবে একটি প্রেজেন্টেশন শুরু করতে হয়?

একটি প্রেজেন্টেশনের শুরুটা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এটি শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং পুরো উপস্থাপনার ভিত্তি তৈরি করে। শুরুটা আকর্ষণীয় হলে শ্রোতাদের মনোযোগ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব। নিম্নে প্রেজেন্টেশন শুরুর সময়ের করণীয়গুলো তুলে ধরা হলোঃ

১. গল্প দিয়ে শুরু করা

কোনো একটি প্রেজেন্টেশন শুরুর আগে গল্প বলা যেতে পারে। এতে করে শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, “দুই বছর আগে যখন আমি এই সমস্যাটি প্রথম মোকাবিলা করি, তখন আমি জানতাম না যে এটি আমার জীবন বদলে দেবে…”

২. শ্রোতাদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া

শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তাদের দিকে প্রশ্ন ছোঁড়া যেতে পারে। যেমন তাদের কে yes/no question অথবা কোনো বিষয় সম্পর্কে তারা একমত কিনা সে প্রশ্ন করা যেতে পারে। এর ফলে সবাই বক্তার প্রতি আকর্ষিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, “আমরা সবাই কি আমাদের জীবনে আরও বেশি অর্থপূর্ণ কাজ করতে চাই? আজ আমি আপনাদের দেখাবো কিভাবে সেটি সম্ভব।”

৩. ভিন্ন ভাবে শুরু করা

প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে একটু সৃজনশীলতা অবলম্বন করা হলে প্রেজেন্টেশনটি আরও সুন্দর ভাবে উপস্থাপন সম্ভব। যেমন শুরুর ২-৩ মিনিটকে ভালো ভাবে কাজে লাগাতে হবে। এই সময় অনেকে নিজেকে, নিজের টিমমেট কে পরিচয় করাতে ব্যস্ত হয়ে পরে। কিন্তু প্রফেশনালি প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে প্রথম ২-৩ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়টিতে শ্রোতারা সবচেয়ে বেশি একটিভ থাকে। তাই এমনভাবে প্রেজেন্টেশন শুরু করতে হবে যেনো শ্রোতাদের মনোযোগ সবসময় বক্তার দিকে থাকে।

৪. বিখ্যাত উক্তি ব্যবহার

বক্তা যখন যে বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দেয় সে বিষয়ে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি যুক্ত করা যেতে পারে। এতে করে বক্তা উক্ত বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পোষণ করে বলে শ্রোতারা মনে করেন এবং আরও মনোযোগী হয় ওঠেন।

কিভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রেজেন্টেশন করা যায়?

প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের সহিত নিজের ধারণাগুলো উপস্থাপন করা। এক্ষেত্রে যারা নতুন তাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয় কারণ প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে শ্রোতাদের চোখে চোখ রেখে অর্থাৎ আই কন্ট্যাক্ট মেইনটেইন করতে হয়। নিম্নে আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রেজেন্টেশন করার কিছু উপায় তুলে ধরা হলোঃ

১. প্রেজেন্টেশনের পূর্বে যত সম্ভব অনুশীলন করা

একটি প্রেজেন্টেশন এর ক্ষেত্রে বক্তার উপস্থাপন স্কিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাকে যত সম্ভব অনুশীলন করতে হবে। নিজেকে শান্ত এবং স্বাচ্ছন্দ্য রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারের সবাইকে অথবা বন্ধুদের শ্রোতা বানিয়ে অনুশীলন করা যেতে পারে। এতে নার্ভাসনেস কিছুটা হ্রাস পাবে। যে স্থানে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে সেখানে একটু ঘোরাঘুরি করতে পারলে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা যেতে পারে। সম্ভব হলে সেখানেও কিছুটা অনুশীলন করা যেতে পারে।

২. শ্রোতা বাছাই

শিক্ষা ক্ষেত্রে অথবা কর্মজীবনে আমাদের অনেকের সাথে পরিচয় হয়। এদের মধ্যে অনেকে আবার আমাদের খুবই ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে। তাই এক্ষেত্রে কোনো প্রেজেন্টেশন দেওয়ার সময় যে রুমে প্রেজেন্টেশন দেওয়া হবে তার আশেপাশে সম্ভব হলে নিজের বন্ধুদের বসানো উচিত। এতে করে যখনই আই কন্ট্যাক্ট করা হবে তখন নার্ভাসনেস কমানোর জন্য আশেপাশের বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে কথা বললে শ্রোতারা মনে করবেন যে বক্তা সকলের দিকেই সমান ভাবে তাকিয়ে কথা বলছেন।

৩. রুমের কিছু পয়েন্ট বাছাই করা

পূর্বের উপায় অনুযায়ী যদি নিজেদের বন্ধুদের রুমটিতে রাখা না যায় তখন কি হবে? অথবা যদি এমন জায়গায় প্রেজেন্টেশন দিতে হয় যেখানে আমাদের কোনো বন্ধু নেই তখন কিভাবে নার্ভাসনেস কমানোর যাবে? এর আরও একটি ভালো উপায় হলো যদি বন্ধু বা পরিচিতজন না থাকে তাহলে প্রেজেন্টেশন রুম কে ভালোভাবে অবজার্ভ করা। রুমের কিছু অংশ সিলেক্ট করা। প্রেজেন্টেশন স্টেজ এ উঠে কথা বলার সময় যদি শ্রোতাদের চোখে দিকে তাকাতে নার্ভাসনেস কাজ করে তবে রুমের ওই সিলেক্টেড অংশগুলোতে তাকিয়ে কথা বলা যেতে পারে। এতে শ্রোতাদের মনে হবে বক্তা তাদের দিকেই তাকিয়ে বক্তব্য পেশ করছেন।

১. টাইম ম্যানেজমেন্ট

প্রেজেন্টেশনে টাইম ম্যানেজমেন্ট -এর গুরুত্ব হলো এটি বক্তাকে মূল বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে, দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অযাচিত কথা বলা থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে, যা একটি সফল ও গোছানো উপস্থাপনা নিশ্চিত করে। টাইম ম্যানেজমেন্ট -এর মাধ্যমে বক্তা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো উপস্থাপন করতে পারেন এবং একই সাথে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়। 

২. স্লাইড তৈরির ক্ষেত্রে মনযোগী হওয়া

স্লাইডে পুরো বক্তব্য বা বাক্য লেখার বদলে শুধু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, মূল বিষয় বা ইঙ্গিত ব্যবহার করা উচিত। শ্রোতারা বক্তার কথা শুনবেন, স্লাইডের লেখা পড়বেন না। স্লাইডের অতিরিক্ত লেখা মনোযোগ নষ্ট করে।

৩. অতিরিক্ত এনিম্যাশন ব্যবহার করা যাবে না

অতিরিক্ত বা জমকালো অ্যানিমেশন, যেমন বারবার স্লাইড বা টেক্সট ঘুরে আসা, দ্রুত চলাচল করা ইত্যাদি, শ্রোতাদের মূল বক্তব্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। শ্রোতারা স্লাইডের বিষয়বস্তুর চেয়ে অ্যানিমেশনের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেন, যার ফলে বক্তার বার্তাটি ঠিকভাবে পৌঁছায় না।

৪. যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আসা

প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি অত্যাবশ্যক। এটি শুধুমাত্র সফলভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতেই সাহায্য করে না, বরং বক্তার আত্মবিশ্বাস এবং শ্রোতাদের উপর বক্তার প্রভাবকেও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

৫. স্পস্ট ফ্রন্ট ব্যবহার 

স্লাইডের লেখা যেন পেছনের সারি থেকে বসা শ্রোতারাও সহজে পড়তে পারেন। সাধারণত, শিরোনামের জন্য বড় ফন্ট (যেমন, ৪০+ পয়েন্ট) এবং সাধারণ লেখার জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু স্পষ্ট ফন্ট (যেমন, ২৪-৩২ পয়েন্ট) ব্যবহার করা উচিত।

৬. পয়েন্ট আকারে তথ্য উপস্থাপন

প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে পয়েন্ট আকারে তথ্য উপস্থাপন (যেমন বুলেট পয়েন্ট বা সংখ্যাযুক্ত তালিকা ব্যবহার করে) অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল যা শ্রোতাদের তথ্য সহজে গ্রহণ করতে সাহায্য করে।

৭. পারফেক্ট ড্রেসকোড বাছাই করা

প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে পারফেক্ট ড্রেসকোড বা উপযুক্ত পোশাক পরিধান করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এটি বক্তার পেশাদারিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আত্মবিশ্বাসকে সরাসরি প্রভাবিত করে। এটি শ্রোতাদের উপর প্রথম ও দীর্ঘস্থায়ী ধারণা তৈরি করে।সাধারণত প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে বক্তার পরিপাটি পোশাক বাছাই করা উচিত। অর্থাৎ এখানে ক্যাজুয়াল পোশাক পরিহার করে ফরমাল পোশাক পরিধান করা উচিত। 

চাকরির ক্ষেত্রে প্রেজেন্টেশন স্কিল এর গুরুত্ব

চাকরির (Job) ক্ষেত্রে প্রেজেন্টেশন দক্ষতার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল একটি সফট স্কিল নয়, বরং কর্মজীবনে সফল হওয়ার জন্য এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় হাতিয়ার।

এখানে জবের ক্ষেত্রে প্রেজেন্টেশন দক্ষতার প্রধান গুরুত্বগুলো তুলে ধরা হলোঃ

১. কার্যকর যোগাযোগ

কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই প্রেজেন্টেশন এর উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, প্রেজেন্টেশন এর মাধ্যমে তারা কোনো বিষয়/পণ্য অথবা সেবা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাই যে বা যারা এই প্রেজেন্টেশন তৈরি করে তারা ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে সেটি তৈরি করে এবং উপস্থাপন করে। তাছাড়া এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য, কর্মপদ্ধতি, ডেটা ইত্যাদি সহজেই ক্লায়েন্ট এবং উদ্ধতর্ন কর্মকর্তাদের নিকট পৌঁছে যায়। এতে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা যায়।

২. সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার

যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ক্ষেত্রে, নতুন ধারণা, কৌশল বা বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলো প্রায়ই প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বক্তার শক্তিশালী উপস্থাপন দক্ষতা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বক্তার প্রস্তাবের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করতে পারে।

৩. নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাস

প্রেজেন্টেশন দক্ষতা নেতৃত্বের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। টিমের সামনে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা বা মিটিং পরিচালনা করা বক্তার মধ্যে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।

৪. ক্যারিয়ারে অগ্রগতি

প্রেজেন্টেশন দক্ষতা প্রায়শই পদোন্নতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। যারা কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারে এবং ধারণাগুলো তুলে ধরতে পারে, তারা দ্রুত ক্যারিয়ারে উন্নতি লাভ করে।

উপসংহার

প্রেজেন্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিল। এই সফট স্কিলটি একই সাথে আমাদের শিক্ষা জীবন এবং পরবর্তীতে আমাদের কর্মজীবনের জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ন। তাই প্রেজেন্টেশন এর জন্য নিজেকে সবসময় প্রস্তুত করতে হবে। দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। মনে রাখতে হবে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে যে সঠিক এবং গুছিয়ে প্রেজেন্টেশন করতে পারবে সেই এগিয়ে থাকবে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. প্রেজেন্টেশন কী?

উত্তরঃ প্রেজেন্টেশন” বা “উপস্থাপনা” হলো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য, ধারণা বা বার্তার একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত উপস্থাপন যা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরা হয়।

২. কীভাবে একটি প্রেজেন্টেশন সফল হয়?

উত্তরঃ সঠিক প্রস্তুতি, উপযুক্ত উপস্থাপনা কৌশল এবং শ্রোতাদের সাথে সংযোগ স্থাপন, এই তিনটির সমন্বয়েই একটি প্রেজেন্টেশন সফল হয়।

৩. প্রেজেন্টেশন দক্ষতা কেনো অপরিহার্য?

উত্তরঃ নিজের বক্তব্য এবং আইডিয়া গুলোকে সকলের নিকট তুলে ধরার জন্য প্রেজেন্টেশন অপরিহার্য।

৪. কোন কোন ক্ষেত্রে প্রেজেন্টেশন দক্ষতা কাজে আসে?

উত্তরঃ শিক্ষা জীবন এবং কর্ম জীবন উভয় ক্ষেত্রে প্রেজেন্টেশন দক্ষতা কাজে আসে।

৫. প্রেজেন্টেশনের সবচেয়ে মৌলিক এবং প্রধান উদ্দেশ্য কী?

উত্তরঃ তথ্য প্রদান প্রেজেন্টেশনের সবচেয়ে মৌলিক এবং প্রধান উদ্দেশ্য

৬. প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে পারফেক্ট ড্রেসকোড বাছাই কেনো জরুরি?

উত্তরঃ পারফেক্ট ফরমাল ড্রেস শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সাহায্য করে, তাই প্রেজেন্টেশন পারফেক্ট ড্রেসকোড বাছাই করা জরুরি।

তথ্যসূত্র

10 minutes school 

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article

মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় বার্ষিক কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার

দ্য ডেইলি কর্পোরেট সরকার প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল এবং ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax) ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত...

বাজার থেকে আরও ৪৫ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দ্য ডেইলি কর্পোরেট ডেস্ক Bangladesh Bank বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে। রোববার (১১ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের...

উদ্যোক্তা হওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

লেখক: আরেফিন রানা পিয়াস বর্তমান সময়ে উদ্যোক্তা হওয়া শুধু একটি পেশা নয়, বরং এটি নিজের স্বপ্ন পূরণ, নতুন কিছু সৃষ্টি এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার...

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটের সম্ভাবনা

লেখকঃ মালিহা মেহেজাবিন ফ্রিল্যান্সিং কী? ফ্রিল্যান্সিং হলো এমন একটি কাজের পদ্ধতি যেখানে একজন ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরি না করে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য কাজ...