এনসিটি লিজ বাতিল ও বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণসহ চার দফা দাবি
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামীকাল সকাল থেকে বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) লিজ দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও মো. ইব্রাহিম খোকন এই ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।
চার দফা দাবি
কর্মচারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব বাতিল
২. চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে অপসারণ
৩. চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত
৪. বন্দরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ
ধর্মঘট চলাকালে বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রমও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আলোচনায় অগ্রগতি না থাকায় পুনরায় কর্মবিরতি
এর আগে গতকাল কর্মচারীরা জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) আলোচনার আশ্বাস দিলেও পরে আন্দোলন নেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। এর প্রতিবাদে আগামীকাল থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় পোর্ট কলোনির কাছে আয়োজিত এক সভা শেষে আন্দোলনরত কর্মীরা মিছিল বের করেন এবং রাত ৮টার দিকে সিপিএ চেয়ারম্যানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
দিনভর বন্দরে উত্তেজনা বিরাজ করে। আলোচনার ফলাফল নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা। তারা আশঙ্কা করছেন, ধর্মঘট শুরু হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মবিরতির কারণে বন্দরের কার্যক্রম ইতোমধ্যেই ব্যাহত হয়েছে।



