spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

নভেম্বরেই আসছে Bangla QR এ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৬: নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে Bangla QR-এর মাধ্যমে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (P2P) লেনদেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধা চালুর জন্য দেশের ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (PSO) প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ আগস্টের এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের অ্যাপে P2P Bangla QR সুবিধা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে এই সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় একজন ব্যবহারকারী তার অ্যাপ থেকে নিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট P2P QR কোড তৈরি করতে পারবেন। সেই QR কোড অন্য ব্যক্তিকে পাঠানো হলে প্রাপক সেটি স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠাতে পারবেন। ফলে ব্যাংক হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর বা অন্যান্য তথ্য ম্যানুয়ালি টাইপ করার প্রয়োজন কমে আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক শরাফত উল্লাহ খান জানিয়েছেন, Bangla QR-কে ভবিষ্যতে লেনদেনের জন্য একটি একক ও সর্বজনীন QR ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন Bangla QR-এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, P2P লেনদেনে Bangla QR চালু হলে ডিজিটাল লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে Send Money সেবায় হিসাব নম্বর টাইপ করার সময় একটি সংখ্যা ভুল হলেও ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। QR-ভিত্তিক লেনদেনে এই ঝুঁকি কমবে।

নতুন ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক ব্যাংক অথবা MFS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির QR কোডের মাধ্যমে সহজেই অর্থ পাঠাতে পারবেন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর পরিশোধেও ব্যবহারের পরিকল্পনা

শুধু ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনেই Bangla QR-এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বাংলাদেশ ব্যাংক। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কর আদায়েও Bangla QR ব্যবহারের বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে এসব ক্ষেত্রেও Bangla QR-ভিত্তিক সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

১ অক্টোবর থেকে মার্চেন্ট পেমেন্টে ইন্টারচেঞ্জ চার্জ শূন্য

ডিজিটাল লেনদেন আরও উৎসাহিত করতে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে Bangla QR-ভিত্তিক মার্চেন্ট পেমেন্টে Interchange Reimbursement Fee (IRF) শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর ফলে মার্চেন্টদের হয়ে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বা কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর IRF-ভিত্তিক কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ আরোপ করা যাবে না।

ছোট ব্যবসায়ীদের Bangla QR ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে। প্রয়োজন হলে এ তহবিলের আকার আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

ছয় মাসে Bangla QR লেনদেন বেড়েছে ৮.৬ গুণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে Bangla QR-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে Bangla QR-এর মাধ্যমে ৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৮টি লেনদেনে ২১২ কোটি ৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল। জুলাইয়ে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩৮টিতে, আর লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা

অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে Bangla QR-এর মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় ৮.৬ গুণ বেড়েছে। একই সময়ে লেনদেনের মোট মূল্য বেড়েছে প্রায় সাত গুণ

তিন মাসে মার্চেন্ট বেড়েছে প্রায় ৭৯ শতাংশ

Bangla QR গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে ২০২৬-এ দেশে Bangla QR মার্চেন্ট ছিল ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৭১২টি

জুনে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৮টিতে এবং জুলাইয়ে তা আরও বেড়ে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টিতে পৌঁছায়।

অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে Bangla QR গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়েছে।

বছরে নগদ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারভেজ আনজাম মুনির জানান, ব্যাংক নোট ছাপানো থেকে শুরু করে বাজারে বিতরণ, ব্যবহার শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ও পুরোনো নোট সংগ্রহ এবং সেগুলো ধ্বংস করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।

তার মতে, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

স্মার্টফোনের সীমিত ব্যবহার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ

তবে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে বড় একটি বাধা হিসেবে স্মার্টফোনের সীমিত ব্যবহারকে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো প্রায় ৬ কোটি মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন

এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আনতে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ তৈরির বিষয়েও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে Bangla QR শুধু মার্চেন্ট পেমেন্টের একটি মাধ্যম না থেকে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন, ব্যাংক ও MFS আন্তঃলেনদেন, সরকারি ফি ও কর পরিশোধসহ একটি সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোতে পরিণত হতে পারে। এতে নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১,০০০ কোটি টাকার জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদকঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২৬: দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে সহায়তা দিতে ১,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ ও অনুদান কর্মসূচি চালুর...

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান হলেন মারুফ সাত্তার আলী

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী ও করপোরেট ব্যক্তিত্ব মারুফ সাত্তার আলী। এর আগে ২০২৫ সালের রোববার (৩ আগস্ট) ভার্চ্যুয়াল...

কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে ১৬৩.৬ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে বাস্তবে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায়...

বাংলা কিউআর ব্যবহারে গতি আনতে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা দেশে বাংলা কিউআর ব্যবহারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজন হলে এ তহবিলের পরিমাণ আরও...