আজকের বাংলাদেশি করপোরেট দুনিয়ায় HR এখনো অনেক জায়গায় শুধু লিভ ম্যানেজ করা, অ্যাটেনডেন্স দেখা আর সেলারি প্রসেস করার কাজেই সীমাবদ্ধ। অথচ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ—ট্যালেন্ট ধরে রাখা, কর্মীদের প্রোডাক্টিভ রাখা, ওয়ার্কপ্লেস কালচার গড়ে তোলা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত HR-এর।
১. কেন এখনো HR কে স্রেফ অ্যাডমিন হিসেবেই দেখা হয়?
- আমাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে HR এখনো decision-maker নয়, বরং কার্যত সাপোর্ট স্টাফের ভূমিকায়। কারণ:
- শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় HR-এর অংশগ্রহণ অনেক কম
- HR পেশাজীবীদের মধ্যে এখনো অনেকের স্কিল traditional, স্ট্র্যাটেজিক নয়
- Data-driven চিন্তা বা People Analytics এখনো খুব কম কোম্পানিতে ব্যবহার হয়
- এর ফলে HR নিজের ভূমিকা বদলাতে পারছে না—আর ব্যবসায়িক নেতৃত্বও বুঝতে পারছে না, এর সুযোগ-সুবিধা।
২. ট্যালেন্ট ধরে রাখা কেন কঠিন হচ্ছে? নতুন প্রজন্মের কর্মীরা শুধু বেতনের জন্য কাজ করে না।
তারা চায়:
- অর্থবহ কাজের অভিজ্ঞতা
- শেখার ও উন্নতির সুযোগ
- ক্যারিয়ারে গ্রোথের স্পষ্ট পথ
- মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং কাজের ভারসাম্য
এই বিষয়গুলো ডিজাইন করা HR-এর কাজ। অথচ HR যদি শুধু ছুটি মঞ্জুর করা আর ফাইল আপডেট করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাহলে ওই তরুণ ট্যালেন্টরা অন্য কোম্পানিতে চলে যাবে—যেখানে তাদের ভালোভাবে বোঝা হচ্ছে।
৩. এখনই সময় HR-এর জায়গাটা বদলানোর বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য সময় এসেছে HR কে বোর্ডরুমে জায়গা দেওয়ার।
তাদের উচিত:
- HR কে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার বানানো
- HR টিমকে আপস্কিল করানো—Leadership, Culture, Diversity এগুলোর বিষয় জানাতে
- কর্মীদের সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে HR-এর ইনসাইট ব্যবহার করা
৪. ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত দেশে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে,
যারা HR-কে গুরুত্ব দিয়ে পুরো কোম্পানির পরিবেশ বদলে দিয়েছে।
- Unilever Bangladesh: HR কে decision-making table এ এনেছে। ফলে কর্মী সন্তুষ্টি ও employee retention দুই-ই অনেক ভালো।
- Grameenphone: কালচার, লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ও কর্মীদের well-being-এ নিরবিচারে ইনভেস্ট করছে।
শেষ কথা মানুষ ছাড়া কোম্পানি চলে না। তাই মানুষের সঙ্গে যেই বিভাগটা সবচেয়ে বেশি কাজ করে, সেই HR-এর অবস্থান যদি সঠিক না হয়—তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানটাই পিছিয়ে পড়বে।এখনই সময় HR-এর জায়গাটা বদলানোর আজকের বাস্তবতায় HR হচ্ছে business growth-এর একেবারে ভিত। তাকে যদি আমরা এখনো পুরনো অ্যাডমিন কাজেই সীমাবদ্ধ রাখি, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশি করপোরেট দুনিয়ায় আমরা টিকেই থাকতে পারব না।




