লেখকঃ নাওমী ইসলাম
বাংলাদেশের আর্থিক খাতে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে এবং সম্প্রসারণের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্বরত হয়েছেন তারেক রেফাত উল্লাহ খান। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগের ঘোষণা দেয়।
তারেক রেফাত উল্লাহ খানের পেশাগত অভিজ্ঞতা
তারেক রেফাত উল্লাহ খান ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যাংকে তার সুনৌখনিক নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিশেষ ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৭ মে থেকে তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও (চার্জে) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি ব্যাংকের কর্পোরেট ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর হন। তার নেতৃত্বে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর যে গতিবেগ হয়েছে, তা ব্যাংক পরিচালকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের আগামী দিন: নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান বলেন, “তারেক রেফাত উল্লাহ খান ব্যাংকের জন্য আদর্শ নেতৃত্ব। তার নেতৃত্বে ব্র্যাক ব্যাংক আগামী দিনগুলোতে আরও দ্রুতগতিতে ব্যবসায়িক প্রসার ঘটাবে, উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসবে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে নিয়ে যাবে।”
ব্র্যাক ব্যাংক দেশের অন্যতম বড় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক হিসাবে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকসেবা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা এবং ক্ষুদ্র- ও মাঝারি ব্যবসায় (এসএমই) সহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা। তারেক রেফাত উল্লাহর নেতৃত্বে ব্যাংক এসব লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করবে বলে ব্যবসায়ী মহল আশা করছে।
ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা ও ব্র্যাক ব্যাংকের ভূমিকা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত গত দশকে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ডিজিটাল ট্রানজেকশনের প্রসার, আর্থিক প্রযুক্তির (ফিনটেক) ইতিবাচক প্রভাব, এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ আর সুযোগ নিয়ে এসেছে।
ব্র্যাক ব্যাংক তার টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প ও উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে। এই দিক থেকে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তারেক রেফাত উল্লাহর নেতৃত্বে ব্র্যাক ব্যাংকের কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তারেক রেফাত উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ও গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবনী পণ্য আনার ওপর জোর দিয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা করোনাকালে ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তারেকের নেতৃত্বে ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতি পাবে এবং ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করবে।
ব্র্যাক ব্যাংক নবচেতনার মাধ্যমে এশিয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। ব্যাংকিং সেবায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গবেষণার প্রেক্ষিতে ব্র্যাক ব্যাংকের ভবিষ্যত
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আর্থিক খাতে গবেষণাধারার বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে দক্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রযুক্তি ও গ্লোবালাইজেশনের প্রভাবের ফলে ব্যাংকগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে। নেতৃত্ব যারা উদ্ভাবনী ও পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত, তাঁরা আগামী দিনে সফল হবেন।
তারেক রেফাত উল্লাহর ব্যাংকিং ক্যারিয়ার প্রমাণ করে তিনি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাতে পারদর্শী। ব্র্যাক ব্যাংকের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থানের আলোকে তার অভিজ্ঞতা ব্যাংকটিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
উপসংহার
তারেক রেফাত উল্লাহর ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে নিযুক্তি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার নেতৃত্বে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত হবে।
বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশে তার দক্ষতা ব্যাংকটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারেক রেফাত উল্লাহর গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে ব্র্যাক ব্যাংক আগামী দিনগুলোতে দেশের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবিচলিত থাকবে।
আরো পড়ুনঃ গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ব্যাংক এশিয়ার কর্পোরেট চুক্তি – The Daily Corporate
কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ব্র্যাক ব্যাংক কী ধরনের ব্যাংক?
উত্তর: ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, যা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত। এটি বাংলাদেশে টেকসই ব্যাংকিং এবং ব্যবস্থাপনায় অনন্য অবস্থানে রয়েছে। ব্যাংকটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকসেবা প্রদান করে থাকে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে.
প্রশ্ন: ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা কবে এবং কারা এর পেছনে?
উত্তর: ব্র্যাক ব্যাংক ৪ জুলাই ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত বাংলাদেশি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক কর্তৃক পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক, যার প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ। ব্যাংকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অর্থায়ন প্রদান করে থাকেএবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে.
প্রশ্ন: ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান পণ্য ও সেবা কি কি?
উত্তর: ব্র্যাক ব্যাংক এসএমই ব্যাংকিং, বাণিজ্যিক ব্যাংকিং, কর্পোরেট ব্যাংকিং, প্রবাসী ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সেবা, এটিএম, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, গৃহঋণ, ব্যক্তি ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা দেয়। এছাড়া সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের বিভিন্ন প্যাকেজ গ্রাহকদের জন্য উপলব্ধ রয়েছে.
প্রশ্ন: ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক?
উত্তর: বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের দেশে ১৮৭টি শাখা, ৪৫৭টিরও বেশি এসএমই ইউনিট অফিস, ৪৫০টিরও বেশি এটিএম বুথ এবং ১১২৩টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। এসব মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকিং সেবার সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন.
প্রশ্ন: ব্র্যাক ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে?
উত্তর: ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তারেক রেফাত উল্লাহ খান ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তার আগে তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংকে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তার নেতৃত্বে ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবন বৃদ্ধির জন্য আশাবাদী.
প্রশ্ন: ব্র্যাক ব্যাংক টেকসই ব্যাংকিংয়ে কী ভূমিকা রাখছে?
উত্তর: ব্র্যাক ব্যাংক দেশের অন্যতম সেরা টেকসই ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এটি পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সেবা প্রদান করে। শহরের আমানত গ্রামে বিনিয়োগ এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের ভূমিকা প্রশংসিত। ব্যাংক দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের টেকসই তালিকায় রয়েছে এবং ২০২৪-২৫ সালে নিশ্ছিদ্র মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে.
প্রশ্ন: ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম কী?
উত্তর: ব্র্যাক ব্যাংক ইকুইটি পার্টনারস সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও ব্র্যাক ইপিএল ব্রোকারেজ লিমিটেডের মাধ্যমে পুঁজি বাজারে সক্রিয়। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি মানি ইন মোশন এবং ডান অ্যান্ড ব্র্যাডশিট করপোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে.
তথ্যসূত্র





