লিখেছেনঃ আফসানা তাসনীম
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাইক্রো ইন্টার্নশিপের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। মাইক্রো ইন্টার্নশিপ মূলত স্বল্প মেয়াদী প্রজেক্ট ভিত্তিক ইন্টার্নশিপ যা বিশেষত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ডিজাইন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক দেয়া হয় কিংবা পারিশ্রমিকবিহীন ও হতে পারে। দেশ-বিদেশের প্রচুর শিক্ষার্থী এখন পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি আয় হিসেবে অথবা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের পথে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ধাপ হিসেবে এ ধরনের ইন্টার্নশিপ কে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
আবার নিয়োগ দাতারা স্বল্প মেয়াদী প্রজেক্ট এর জন্য অভ্যন্তরীণ জনবল কে পরিবর্তন না করে শিক্ষার্থীদের এ কাজে ব্যবহার করছেন। তাই ক্রমশ মাইক্রো ইন্টার্নশিপের প্রতি এক ধরনের বৈশ্বিক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
মাইক্রো ইন্টার্নশিপের বৈশ্বিক প্রবণতা
মাইক্রো ইন্টার্নশিপ এর ধারণা খুব বেশি পুরাতন নয়। ২০১৬ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ইন্টার্নশিপের প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এ সময়ের পর থেকেই নিয়োগ দাতারা শিক্ষার্থীদের স্বল্পমেয়াদী প্রজেক্টে নিয়োগ দিতে শুরু করেন যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ ছিলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। বিধায় এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধারণাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এই ধারণাটি ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতেও জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
শিক্ষার্থীদের আগ্রহের মূল কারণ
মাইক্রো ইন্টার্নশিপ এ আগ্রহী হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। চাকরি প্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ যথাযথ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবে কাংখিত চাকরিতে যোগদান করতে ব্যর্থ হয়। মাইক্রো ইন্টার্নশিপ তাদের জন্য দক্ষতা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গভাবে চাকরিতে যোগদানের পূর্বেই চাকরির পরিবেশ ও ধরনের সাথে পরিচিত হতে পারে। মাইক্রো ইন্টার্নশিপ-এ আগ্রহী হওয়ার অন্যতম কারণগুলো হলো –
১.সময় ও ফ্লেক্সিবিলিটি :এ ধরনের ইন্টার্নশিপে শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামতো সময় কাজ করতে পারে। ফলে পড়াশোনা অন্যান্য কাজের কোন বিঘ্ন ছাড়াই সফলভাবে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা যায়।
২.দ্রুত দক্ষতা অর্জন : ইন্টার্নশিপে শিক্ষার্থীরা স্বল্প মেয়াদে কাজ করলেও এর মাধ্যমে তারা নির্ধারিত ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে পারে যা পরবর্তীতে চাকরির ক্ষেত্রে তারা কাজে লাগাতে পারবে।
৩.রিজুমে বা প্রোফাইল তৈরি: মাইক্রো ইন্টার্নশিপে কাজ করে শিক্ষার্থীরা একটি শক্তিশালী রেজুমে বা প্রোফাইল তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪.কাজের ধরনের সঙ্গে পরিচিত হওয়া:ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জব কালচারের সাথে পরিচিত হয়। তারা বুঝতে পারে কোন কাজের জন্য কি ধরনের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রয়োজন। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ভাবে চাকরিতে যোগদানের সময় এই ধারণা তারা কাজে লাগাতে পারে।
৫.পেশাদার সংযোগ স্থাপন: শিক্ষার্থীরা ইন্টার্ন হিসেবে যে সংগঠনের সাথে কাজ করছে সেখানে তাদের একটি শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করার সুযোগ থাকে। পেশাদার সংযোগ স্থাপন ও যোগাযোগ দক্ষতা যে কোন চাকরিতেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৬.ডিজিটাল বা অনলাইন কাজের সুযোগ: এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বা ঘরে বসেই কাজ সম্পন্ন করতে পারে।ফলে সময় এবং শ্রম লাঘব হয়।
নিয়োগ দাতারা মাইক্রো ইন্টার্নশিপ কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাইক্রো ইন্টার্নশিপ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ হাতিয়ার হতে পারে।নিয়োগদাতারা এই অভিজ্ঞতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ইন্টার্নশিপে থাকাকালীন অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও দ্রুত নতুন কিছু শেখার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে আইটি ফার্মগুলো এ ধরনের অভিজ্ঞতা কে তুলনামূলকভাবে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখে প্রাথমিকভাবে কাঙ্খিত প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে এর চাহিদা অনেক। বাংলাদেশ ধারণাটি নতুন হলেও ক্রমশ এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। স্টার্টআপ এবং আইটি ফার্মগুলোতে এ ধরনের ইন্টার্নরা বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।
আরো পড়ুনঃ আইটি সেক্টরে একসাথে ছাঁটাই ও নিয়োগ—এর পেছনের কারণ কী?
উপসংহার
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে মাইক্রো ইন্টার্নশিপ একটি নতুন ধারা উন্মোচন করেছে। স্বল্প সময় ব্যয় করে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জন ও বাড়তি উপার্জনের এটি অন্যতম মাধ্যম। পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে নিজেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে রাখতে মাইক্রো ইন্টার্নশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই একে ঘিরে বৈশ্বিক প্রবণতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১.মাইক্রো ইন্টার্নশিপের জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর :না, মাইক্রো ইন্টার্নশিপের জন্য বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। মৌলিক দক্ষতা যেমন- লেখালেখি, ডেটা এনালাইসিস, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি দক্ষতা থাকলেই যথেষ্ট।
২.মাইক্রো ইন্টার্নশিপ কি পেইড হয়?
উত্তর :এ ধরনের ইন্টারনশিপ পেইড অথবা আন পেইড দুই ধরনেরই হতে পারে।
৩.মাইক্রোইন্টার্নশিপ এর অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে চাকরির ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যায় কি?
উত্তর :হ্যাঁ, মাইক্রো এন্টোনশিপের মাধ্যমে রিয়েল ওয়ার্ল্ড চাকরির পরিবেশ ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া যায় এবং নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ হওয়া যায় যা পরবর্তীতে চাকরি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
৪.মাইক্রো ইন্টার্নশিপ এর কাজ কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, স্টার্টআপ এবং LinkedIn থেকেও এ ধরনের কাজ পাওয়া যাবে।
তথ্যসূত্র :
১. Parker Dewey. (2023). Micro-internships: Real world, professional experience in short-term projects. Retrieved from https://www.parkerdewey.com
২. National Association of Colleges and Employers (NACE). (2022). Student preferences for short-term internships and experiential learning. Retrieved from https://www.naceweb.org
৩. World Economic Forum. (2023). The future of jobs report 2023. Retrieved from https://www.weforum.org/reports/future-of-jobs-report-2023





