লিখেছেনঃ নুজহাত জাহান নিহান
ঘুম ভাঙার পর সকালের চা কিংবা দিনের ক্লান্তি কাটাতে এক কাপ চা বাংলাদেশের মানুষের জীবনে চায়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ঝামেলাহীন ও সাশ্রয়ী হওয়ায় একবার ব্যবহারের চা ব্যাগ বা টি ব্যাগ বহু চা-প্রেমীর প্রথম পছন্দ। অথচ সেই চায়ের কাপেই ‘বিষ’।
পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) এর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের জনপ্রিয় চা ব্র্যান্ডগুলোর টি ব্যাগে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত ভারী ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে।
গবেষণার জন্য স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত ১৩টি নমুনা (১২টি টিব্যাগ ও একটি আলগা পাতা) ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, এসব চায়ে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার বহু গুণ বেশি বিষাক্ত ধাতু রয়েছে। পরীক্ষায় পাওয়া গেছে—
- ক্রোমিয়াম: ১,৬৯০ পিপিএম (নিরাপদ সীমা ৫ পিপিএম)
- সিসা: ৫১ পিপিএম (সীমা ৫ পিপিএম)
- পারদ: ১০৮ পিপিএম (সীমা ০.৩ পিপিএম)
- আর্সেনিক: ১৪ পিপিএম (সীমা ২ পিপিএম)
এছাড়া টি ব্যাগের প্যাকেজিংয়েও অ্যান্টিমনির মাত্রা ১৫৪ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এমনকি ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের উচ্চমাত্রার দূষণ নিয়মিত চা পানকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ৫৫ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন অন্তত ২–৩ কাপ এবং ২৭ শতাংশ চার বা ততোধিক কাপ চা পান করেন। কিন্তু মাত্র ১ শতাংশ ভোক্তা জানেন যে টিব্যাগে ভারী ধাতু থাকতে পারে।
যদিও চা পাতায় আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, জিঙ্ক ও কোবাল্টের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইএসডিও’র চেয়ারম্যান মারগুব মোর্শেদ বলেন, “এটি ভোক্তা অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আমরা কর্তৃপক্ষ, উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”
গবেষণায় প্রকাশিত ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যে স্বাভাবিকভাবে জনপ্রিয় চা পানে নিয়মিত মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদকদের দায়িত্বশীল পদক্ষেপের পাশাপাশি ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো এখন অতীব জরুরি। যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ চা পান করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলি কমানো যায়।



