লেখক: মোঃ নাইমুর রহমান নাইম
সারা বিশ্বেই এখন সাস্টেনিবল (পরিবেশবান্ধব) ব্যবসা একটি বড় আলোচনার বিষয়। তবে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশে কি সাস্টেনিবিলিটি মার্কেটিং কাজ করছে? আর গ্রিন মার্কেটিং নিয়ে ভোক্তাদের আসলে চিন্তাভাবনাই বা কী?
সাস্টেনিবিলিটি মার্কেটিং কী?
সাস্টেনিবিলিটি মার্কেটিং এমন একটি কৌশল, যেখানে ব্যবসাগুলো পণ্য বা সেবাকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তা পরিবেশ, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক প্রভাব রাখে।
উদাহরণ:
- পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং
- পুনর্ব্যবহারযোগ্য (recyclable) উপকরণ
- কম কার্বন নিঃসরণ
- পানি/বিদ্যুৎ অপচয় হ্রাস
বাংলাদেশে এর প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে এখনও সাস্টেনিবিলিটি মার্কেটিং শুরু পর্যায়ে রয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে—
- Unilever: “Love Beauty and Planet” সিরিজে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং।
- Grameenphone: ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং প্রজেক্ট
- Pathao Food: কখনও কখনও কাগজের প্যাক ব্যবহার
কিন্তু বড় একটি প্রশ্ন রয়ে যায়—ভোক্তারা কি এগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে?
গ্রিন এডস ও ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
গ্রিন এডস বা পরিবেশবান্ধব বিজ্ঞাপন এখন বেশ দেখা যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ভোক্তারা এখনো কয়েকটি বিষয়ে বিভ্রান্ত:
সচেতন তরুণ প্রজন্ম (১৮-৩০ বছর):
তারা প্লাস্টিক বর্জন, জিরো-ওয়েস্ট লাইফস্টাইল নিয়ে আগ্রহী। এদের অনেকেই “গ্রিন” লেভেলিং দেখতে চায়।
মূলধারার ভোক্তা (৩০+ বছর):
তাদের কাছে এখনো পণ্যের দাম, গুণগতমান ও সহজলভ্যতাই মূল বিষয়। তারা গ্রিন এডসকে প্রায়ই “মার্কেটিং গিমিক” মনে করে।
এক জরিপে দেখা গেছে—বাংলাদেশের ৬২% ভোক্তা গ্রিন টার্ম বুঝে না, ৭৫% ভোক্তা বুঝলেও তা কেনার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে না।
আরো পড়ুনঃ Why Smart Employees Are Quiet Quitting- কর্পোরেটদের কি করা উচিত?
তাহলে কি এটা ব্যর্থ কৌশল?
না। এটা শুরু পর্যায়ে আছে। তবে সফলতা পেতে হলে দরকার:
- শিক্ষামূলক কনটেন্ট মার্কেটিং: ভোক্তাকে বুঝিয়ে বলা—কেন এটা ভালো।
- ভোক্তাদের অংশগ্রহণ: প্লাস্টিক রিটার্ন, ইকো-রিওয়ার্ড সিস্টেম
- ট্রান্সপারেন্সি: সঠিক তথ্য, প্রমাণসহ গ্রিন দাবি করতে হবে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
- “Greenwashing” (ভুলভাবে গ্রিন দাবি করা) থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বার্তা ছড়ানো যেতে পারে।
- সরকার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রিন প্র্যাকটিসে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
উপসংহার
সাস্টেনিবিলিটি মার্কেটিং এখনো বাংলাদেশের জন্য নতুন, তবে সময়ের দাবি হয়ে উঠছে। তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা, কর্পোরেটদের আন্তরিকতা ও প্রযুক্তির সহযোগিতায় এটি আগামী দিনে ব্র্যান্ড ভ্যালু ও বিক্রয়—দুটোতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র (References):
- ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১–২০৪১




