লেখকঃ কাজী গণিউর রহমান
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে: কোনো করদাতা যদি আয়করের রিটার্ন ফর্মে ‘শূন্য’ হিসেবে তার আয়, ব্যয়, সম্পদ বা দায় দেখান, তা আইনত ফৌজদারি অপরাধ, এবং ৫ বছরের কারাদণ্ডে অন্তর্গত হতে পারে। (Prothom Alo, ১০ আগস্ট ২০২৫)
কেন “Zero Return” বিপজ্জনক?
বর্তমানে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ানো হচ্ছে যে, আয়কর রিটার্ন ফরমে “জিরো রিটার্ন” নামে এমন একটি অপশন রয়েছে যেখানে করদাতারা সব তথ্য ‘শূন্য’ হিসেবে পূরণ করে পাঠাতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এই ধারণাকে স্পষ্টভাবে “প্রতারণামূলক” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মূলত, এমন একটি অপশনের অস্তিত্ব নেই, এবং কেউ যদি এইভাবে তথ্য জমা দেন, তাহলে তা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইন অনুযায়ী, করদাতারা বাধ্যতামূলকভাবে তাদের আয়ের প্রকৃত পরিমাণ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়বর্ষ সঠিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে। সেই তথ্য সঠিকভাবে না দেওয়া হলে, সেটি সরাসরি অর্থ ও ফৌজদারি আইনের উল্লঙ্ঘন—বিশেষত উল্লিখিত ধারা ৩১২ ও ৩১৩-এর অধীনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে ।
অন্যদিকে,যদি করদাতা করযোগ্য না হন—অর্থাৎ আইনত কর ফেরত পাওয়ার যোগ্য—তবুও তথ্য উপস্থাপন সঠিকভাবে করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায়, সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করে রিটার্ন করা আইন লঙ্ঘনের মতোই গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়। করদাতাদের সচেতনভাবে এই বিষয়গুলো মেনে চলা সরকারের পক্ষ থেকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
নাগরিকদের দায়িত্ব ও সতর্কতা
এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে করদাতারা হয়রানিমূলক ‘জিরো রিটার্নের ফাঁদে’ পড়বেন না। প্রবলভাবে অনলাইনে বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভুল ধারণা থেকে দূরে থেকে তারা নিজেকে আইন ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বাইরে রাখতে পারেন।
চলতি করদাতার অবস্থা
- গত অর্থবছরে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দিয়েছে প্রায় ১৭ লাখ করদাতা। তাদের মধ্যে ৭০% করদান করেননি, কিন্তু রিটার্ন দিয়েছেন।
- বর্তমান সময়ে প্রতিটি করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত এসেছে।
- ১ কোটি ১২ লাখ TIN সক্রিয় রয়েছে, এবং বছরে প্রায় ৪০ লাখ করদাতা রিটার্ন করেন।
তথ্য টেবিল: “শূন্য রিটার্ন” সম্পর্কিত নিয়ম ও বাস্তবতা
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: “শূন্য রিটার্ন” মানে কী?
উত্তর: কোনো করদাতা আয়, ব্যয়, সম্পদ বা দায়-সম্বন্ধিত সব তথ্য ‘শূন্য’ হিসেবে রিটার্নে দেখান—যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি ফৌজদারি অপরাধ এবং ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রশ্ন ২: “Zero Return” করদাতার জন্য কোনো আইনি সুযোগ আছে কি?
উত্তর: নাই। করযোগ্য না হলেও তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। “Zero Return” নামে কোনো সুবিধা বা বন্দোবস্ত আইন অনুযায়ী নেই।
প্রশ্ন ৩: গত বছরে অনলাইনে কতজন রিটার্ন করেছেন?
উত্তর: প্রায় ১৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন করেছে, যার ৭০% কর না দেয়ার পরও রিটার্ন জমায়।
প্রশ্ন ৪: এখন কি অনলাইনে রিটার্ন বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ। সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দায়বদ্ধভাবে পূরণ করতে হবে।
প্রশ্ন ৫: আইনিভাবে ঠিকভাবে রিটার্ন করতে করদাতাদের দায়িত্ব কী?
উত্তর: প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য সঠিকভাবে রিটার্নে উল্লেখ করা—এটাই একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের আইনি দায়বদ্ধতা।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo | ‘শূন্য’ রিটার্ন দিলে ৫ বছর পর্যন্ত জেল: এনবিআর
https://www.prothomalo.com/business/economics/r50414prbg - National Board of Revenue




