লেখকঃ নাওমী ইসলাম
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি ব্যাংক উত্তরা ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি মোঃ আবুল হাসেমকে তাদের নতুন ব্যবস্থাপক পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (MD & CEO) হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৮ বছরে তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন যা তার নেতৃত্বের প্রতি ব্যাংকের আস্থা এবং গর্বের বিষয়। মোঃ আবুল হাসেমের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিকাশ ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরা ব্যাংকের পরিচিতি
উত্তরা ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক। ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সময় “ইস্টার্ন ব্যাংকিং কর্পোরেশন” নামে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের পর জাতীয়করণ হয়ে উত্তরা ব্যাংক নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৮৩ সালে এটি বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে দেশের ২৪৯টি শাখা ও ৪৭টি উপশাখার মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি “Uttara Bank Limited” থেকে “Uttara Bank PLC” নামে পুনরায় ব্র্যান্ড নাম পরিবর্তন করে। ব্যাংকটি সাধারণ হিসাব, কর্পোরেট ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ব্যাংকিং এবং এসএমই ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশি অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
মোঃ আবুল হাসেমের জীবন ও কর্মজীবন
মোঃ আবুল হাসেম ১৯৯৭ সালে প্রোবেশনারি অফিসার হিসেবে উত্তরা ব্যাংকে যোগদান করেন। এর পর তিনি ক্রেডিট, ট্রেজারি, রিকভারি, এবং অ্যাসেট ও লায়াবিলিটি ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অবদান রেখেছেন। তার নেতৃত্ব ও সততার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে Integrity Award লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.এস. ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (BUBT) থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ করেন। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে ব্যাংকের প্রতিনিধিত্বও করেছেন।
নিয়োগের গুরুত্ব
মোঃ আবুল হাসেমের নিয়োগ উত্তরা ব্যাংকের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা, নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহকসেবা এবং আর্থিক সেবা ক্ষেত্রের মান উন্নয়নে সক্ষম হবে। ব্যাংকের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বাজারে প্রতিযোগিতায় উত্তরা ব্যাংকের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা হবে।
ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত
উত্তরা ব্যাংক পিএলসি বর্তমানে ২৪৯টি শাখা ও ৪৭টি উপশাখা নিয়ে দেশের বিস্তৃত ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। ব্যাংকের আর্থিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকগুলোর একটি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্রিয়। কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ঋণ প্রদান, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাংক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। মোঃ আবুল হাসেমের পরিকল্পনায় ব্যাংক ডিজিটালাইজেশন, গ্রাহকভিত্তিক সেবা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে জোর দেবে।
বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব
উত্তরা ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ অর্থনীতি ও বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রেমিট্যান্স বাজারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণে সহায়তা প্রদান করে। ভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত শক্তিশালী কাউন্সিল পরিচালনায় ব্যাংক দেশের আর্থিক অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ব্যাংক আরও উন্নতি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারবে যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উপসংহার
মোঃ আবুল হাসেম ব্যাংকিং পেশায় দীর্ঘ দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম ও সৎ নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। তাঁর নতুন এ পদে নিযুক্তি উত্তরা ব্যাংকের জন্য একটি নতুন আশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। ব্যাংকের আর্থিক পরিসর বাড়ানো, প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং গ্রাহক সেবায় উন্নতি করার লক্ষ্যে তার নেতৃত্বে ব্যাংকের সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে।
আরো পড়ুনঃ মোবাইল ফাইন্যান্সে নতুন দিগন্তঃ ট্রাস্ট ব্যাংক–বিকাশ পার্টনারশিপ – The Daily Corporate
কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: মোঃ আবুল হাসেমের নতুন নিয়োগ কত দিন হয়েছে?
মোঃ আবুল হাসেমকে উত্তরা ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপক পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (MD & CEO) হিসেবে ২০২৫ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ২: মোঃ আবুল হাসেম এর কর্মজীবনের পরিচিতি কী?
তিনি ১৯৯৭ সালে প্রোবেশনারি অফিসার হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করেন এবং ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। Integrity Award (২০২০-২১) পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও BUBT থেকে শিক্ষা অর্জন করেছেন।
প্রশ্ন ৩: উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (EPS) কত?
২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় ৫৮ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
প্রশ্ন ৪: উত্তরা ব্যাংক কি ধরনের লভ্যাংশ দেয়?
২০২৪ সালে উত্তরা ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৭.৫ শতাংশ নগদ ও ১৭.৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় সমান বা কিছুটা বেশি।
প্রশ্ন ৫: ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা এবং মালিকানা কেমন?
মোট শেয়ার সংখ্যা প্রায় ৯৭ কোটি ২ লাখ ৬৮ হাজার এবং এর মধ্যে প্রায় ৩০.৫৯% উদ্যোক্তা পরিচালকদের, ২৬.৩১% প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের, ০.৮০% বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এবং ৪২.৩০% সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।
প্রশ্ন ৬: উত্তরা ব্যাংকের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
ব্যাংক ডিজিটালাইজেশন, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের উপর জোর দিচ্ছে।
প্রশ্ন ৭: উত্তরা ব্যাংক কতগুলো আন্তর্জাতিক করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকের সাথে কাজ করে?
উত্তরা ব্যাংকের প্রায় ৬০০টি আন্তর্জাতিক করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে, যা বৈদেশিক ব্যবসা ও রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে।
তথ্যসূত্র





