দ্য ডেইলি করপোরেট ডেস্ক
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের একীভূতকরণে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ১ সেপ্টেম্বর অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের আজ থেকে নিয়ম অনুযায়ী আমানত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অর্থ গ্রহণের পর অনেক শাখায় গ্রাহকদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
রাজধানীর কয়েকটি শাখা পরিদর্শনে দেখা গেছে, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী শাখাগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেও কিছু গ্রাহককে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
আবেদন অনুযায়ী অর্থ সরবরাহ
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ১ সেপ্টেম্বর যারা অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন, তাদের আজ থেকে পর্যায়ক্রমে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী দিনগুলোতে যারা আবেদন করেছেন, তাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
রাজধানীর কাকরাইল শাখায় আজ ১১ জন গ্রাহকের অর্থ উত্তোলনের কথা ছিল। শাখা ব্যবস্থাপক রহিম খান জানান, তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং অন্যদেরও ব্যাংকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। গ্রাহকদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে স্বাগত জানানোর কথাও জানান তিনি।
পল্টন শাখায়, যা আগে এক্সিম ব্যাংকের শাখা ছিল, ১ সেপ্টেম্বর ১৭ জন গ্রাহক অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন আজ অর্থ নিতে আসেন এবং উভয়েই আবেদন করা সম্পূর্ণ অর্থ পেয়েছেন।
নয়া পল্টন শাখায়, সাবেক গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক শাখায়, এক গ্রাহক জরুরি প্রয়োজনের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি জানান, সন্তানের অসুস্থতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়।
ঋণখেলাপি যাচাই করেই আমানত ফেরত
আমানত ফেরতের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ঋণখেলাপি অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের কোনো গ্রাহকের খেলাপি ঋণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে একটি নির্ধারিত অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কোনো খেলাপি ঋণের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, খেলাপি ঋণ না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকরা তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ বিবেচনা
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের চাহিদার ভিত্তিতে শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসুস্থতা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের বিষয়টি বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের আগেও অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নয়া পল্টন শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ব্যাংক তাদের সেবা দিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ ব্যাংকও পুরো কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বরের আবেদনকারীরা আজ অর্থ পাচ্ছেন। ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে জরুরি প্রয়োজন থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিজয়নগর শাখার ব্যবস্থাপক চৌধুরী এস এম আতীকুর রহমান হায়দার জানান, বড় আমানতকারীরা চাইলে তাদের অর্থ ব্যাংকে রাখতে পারবেন অথবা নিয়ম অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন কিংবা রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (RTGS)-এর মাধ্যমে স্থানান্তর করতে পারবেন। তবে অর্থ ছাড়ের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ঋণ পরিস্থিতিও যাচাই করা হচ্ছে।
ছয় দিনে ৭৫ হাজার আবেদন
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে।
এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের একীভূতকরণের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে।
আমানত ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়া দেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক একীভূতকরণ-পরবর্তী পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে গ্রাহকের আবেদন, ঋণ পরিস্থিতি এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করে ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।




