ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬:
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত উত্তোলনের চাপে তারল্য সংকটে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। গত সাত দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৪,২৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যার ফলে ব্যাংকটির নগদ সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে।
ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগের পর দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে গ্রাহকরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন শুরু করেন। এর ফলে ব্যাংকের ওপর নগদ অর্থের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
সিআরআর বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও হলো গ্রাহকদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য গড় সিআরআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা ৪ শতাংশ।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পরিবর্তনের আগে ইসলামী ব্যাংকের সিআরআর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক আমানত উত্তোলনের চাপে সেই অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের সিআরআর সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা এবং আমরা তারও বেশি সংরক্ষণ করছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমে প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমাদের চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সিআরআর ঘাটতি মোকাবিলা এবং তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০,০০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জোবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যাংকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হলে স্বল্পমেয়াদে আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত তারল্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সূত্রঃ দ্য বিসনেস স্টান্ডডার্ড



