লিখেছেনঃ নুজহাত জাহান নিহান
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৫,৮৮৮ কোটি টাকার প্রোভিশন ঘাটতির মুখে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক এই ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০ বছরের ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ব্যাংকের সাধারণ আয় ও মুনাফার ওপর নির্ভর করে এই ঘাটতি পূরণ করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
আইবিবিএলের নেট প্রফিট ২০২২ এবং ২০২৩ সালে যথাক্রমে ৬১৬ ও ৬৩৫ কোটি টাকা হলেও, ঘাটতি পূরণের জন্য এই আয় যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি ব্যাংক শুধুই তার পুরো মুনাফা ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যয় করত, তবুও এটি পূরণ করতে ১৪৩ বছর সময় লাগত। এই বছরের নেট প্রফিট প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা ধরে নিলে সময় আরও বাড়ে, যা দাঁড়ায় ৬৪৫ বছর।
একটি আশাব্যঞ্জক অনুমান ধরলেও যদি মুনাফা প্রতি বছর ১৫% হারে বাড়ে ঘাটতি পূরণ করতে লাগবে প্রায় ৩৫ বছর। বিশ্লেষকরা মনে করান, একমাত্র উপায় হলো ঋণ পুনরুদ্ধার বা নতুন তহবিল প্রবেশ করানো।
আইবিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান জানিয়েছেন, ব্যাংক মুনাফা থেকে একা ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। ব্যাংক ইতিমধ্যেই এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দ করেছে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার, তবে নিলামে সেগুলো বিক্রি করা যায়নি। তিনি বলেন, “আমরা ধারক গ্রাহকদের মূল্যায়নও করব, যা প্রোভিশন প্রয়োজনীয়তা হ্রাসে সহায়ক হবে।”
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের প্রোভিশন ঘাটতি ব্যাংকের অসুস্থ আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন। প্রোভিশন হল সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য ব্যাংক আলাদা রাখে; যদি পর্যাপ্ত প্রোভিশন না থাকে, ব্যাংকের আসল আর্থিক অবস্থা আড়াল থাকে, যা নিয়ন্ত্রক ও আমানতকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর।
আইবিবিএলের সমস্যার পেছনের বড় কারণ হলো ২০১৭ সালের পর এস আলম গ্রুপের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্য বিনিয়োগকারীর অংশ গ্রহণ প্রত্যাহার। এই সময়ে ব্যাংক তাদের বড় অংশ ঋণ প্রদান করেছে, যার সীমিত মূল্যায়িত জামিন রয়েছে। বিশেষভাবে, সিলভার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ১৮ কোটি টাকার মধ্যে অনুমোদিত ৮৫০ কোটি টাকার ঋণ পরবর্তীতে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।
সর্বশেষ, দুর্নীতির অভিযোগে এস আলম গ্রুপের ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম আর্থিক দুর্নীতি মামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংককে বাঁচাতে সরকার বা মালিকপক্ষের ফ্রেশ ক্যাপিটাল ইনজেকশন প্রয়োজন। সাধারণ আয় বা মুনাফার ওপর একমাত্র নির্ভরতা বাস্তবে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আইবিবিএল এখনো আমানতকারীদের জন্য স্থিতিশীল, এ পর্যন্ত কোনো আমানতকারীর অর্থে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে নীতিগত হস্তক্ষেপ ছাড়া ব্যাংকের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
Source –





