ডেস্ক রিপোর্ট | দ্য ডেইলি কর্পোরেট
এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি—নিত্যপ্রয়োজনীয় তিন খাতে দাম বাড়িয়ে নতুন করে জনভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে সরকার। চলতি এপ্রিলে ধারাবাহিক তিন দফা মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম দফায়, ২ এপ্রিল এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পায়, যা গৃহস্থালি ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করে। (সূত্র: Prothom Alo)
দ্বিতীয় দফায়, ১৭ এপ্রিল বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (সূত্র: The Delta Lens)
তৃতীয় দফায়, ১৮ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়, যা ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। নতুন দরে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। (সূত্র: The Business Standard)
বিশ্লেষকদের মতে, এক মাসে তিনটি মৌলিক সেবা ও পণ্যের দাম বাড়ানো সরাসরি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং নিত্যপণ্যের বাজারে। অন্যদিকে এলপিজির দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর রান্নার খরচও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এই তিন দফা মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে পণ্যমূল্য আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলবে। পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের চাপ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় জনভোগান্তি আরও বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভোক্তাদের প্রশ্ন, এক মাসে পরপর তিন খাতে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা শেষ পর্যন্ত কতটা বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় ভারসাম্যপূর্ণ নীতি ও স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ জরুরি।





