ঢাকা, ৩০ জুন ২০২৬: দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক হিসাব আরও স্বচ্ছ করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে খেলাপি ঋণের বিপরীতে জমে থাকা সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু শর্ত শিথিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো এখন থেকে ঋণগ্রহীতাদের চার্জকৃত (Charged) ও অনাদায়ী বা স্থগিত রাখা (Uncharged) – উভয় ধরনের সুদ মওকুফ করতে পারবে। এর আগে সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে ব্যাংককে অন্তত তহবিল ব্যয়ের (Cost of Funds) সমপরিমাণ অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হতো। নতুন নির্দেশনায় সেই বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অনাদায়ী সুদ ব্যাংকগুলোর ‘ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে’ জমা রয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের সুদ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের ব্যালান্স শিট থেকে দীর্ঘমেয়াদি অকার্যকর ঋণ ও সুদের হিসাব অপসারণ করতে পারবে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্যও খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল (Special Rescheduling) সুবিধা গ্রহণকারী ঋণগ্রহীতারাও এই সুদ মওকুফ সুবিধার আওতায় আসবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ব্যাংক খাতের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের খেলাপি ঋণ সংকট মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সুদ মওকুফের পাশাপাশি ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধ করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



