নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
দেশে বাংলা কিউআর ব্যবহারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজন হলে এ তহবিলের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের নীলগিরি হলে আয়োজিত বাংলা কিউআর বিষয়ক এক কর্মশালায় এ তথ্য জানান তিনি। ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (IFC) যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
গভর্নর বলেন, বর্তমানে দেশে মাসে প্রায় ১ কোটি ডিজিটাল লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা প্রতিদিন ১ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ প্রায় ১০ মাসের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন প্রায় ৩০ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্রুত বাড়ছে বাংলা কিউআর লেনদেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৮টি, যার আর্থিক মূল্য ছিল ২১২ কোটি ৫ লাখ টাকা। জুলাইয়ে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩৮টিতে, যার মূল্য ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
অর্থাৎ ছয় মাসে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় ৮ দশমিক ৬ গুণ এবং লেনদেনের মূল্য প্রায় ৭ গুণ বেড়েছে।
একই সময়ে বাংলা কিউআর গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মে মাসে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৭১২টি মার্চেন্ট থাকলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ বলেন, বাংলা কিউআর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন এবং প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে।
বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা নগদ ব্যবস্থাপনায় ব্যয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারভেজ আনজাম মুনির বলেন, নগদ টাকা ব্যবস্থাপনায় দেশে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নোট ছাপানো, সরবরাহ, সংগ্রহ, ক্ষতিগ্রস্ত নোট প্রত্যাহার ও ধ্বংসসহ বিভিন্ন কাজে এ অর্থ ব্যয় হয়।
তার মতে, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
গভর্নর বলেন, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবসায়িক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ঝুঁকিও কমাবে। পাশাপাশি এটি কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ফিচার ফোন ব্যবহারকারীদের নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
দেশে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় বাধাগুলোর একটি হলো স্মার্টফোনের সীমিত ব্যবহার। বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন।
কম দামে অ্যান্ড্রয়েড ফোন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে দামের বড় ব্যবধান রয়েছে। ব্যবহারকারীরা প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ করতে আগ্রহী হলেও উৎপাদনকারীদের মতে ৮ হাজার টাকার নিচে স্মার্টফোন সরবরাহ করা কঠিন। এ ব্যবধান পূরণে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন প্রয়োজন হতে পারে বলে কর্মশালায় আলোচনা হয়।
মার্চেন্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়েও মার্চেন্টদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভুয়া ফোন ও এসএমএস, ফিশিং, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার, ভুয়া কাস্টমার কেয়ার এবং নকল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
মার্চেন্টদের ব্যক্তিগত তথ্য, পিন ও ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পাশাপাশি অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় প্রায় ১২০ জন মার্চেন্ট অংশ নেন। এতে বাংলা কিউআর ব্যবহারের পদ্ধতি, এর সুবিধা এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়।




