নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যবসা করার ইচ্ছা আছে, কিন্তু শুরু করার মতো পর্যাপ্ত মূলধন নেই—এমন তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভালো ব্যবসায়িক ধারণা ও সম্ভাবনা থাকলে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থাকছে। এর একটি অংশ হবে ব্যাংকঋণ, আর বাকি অংশ শর্তসাপেক্ষ অনুদান।
তবে বিষয়টি শুধু ‘আইডিয়া আছে, ২০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে’—এতটা সহজ নয়। উদ্যোক্তার ব্যবসার সম্ভাবনা, প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করেই অর্থায়ন করা হবে।
কীভাবে পাবেন ২০ লাখ টাকা?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’-এর আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার ক্ষেত্রে—
- ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকঋণ
- ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান
দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ঋণের সুদের হার হবে ৪ থেকে ৭ শতাংশ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলোর একটি হলো, এই ঋণের জন্য কোনো জামানত দিতে হবে না।
কারা এই সুযোগ পাবেন?
এখন পর্যন্ত নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৮ বছর পর্যন্ত বয়সী তরুণ উদ্যোক্তারা এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন।
তবে শুধু ব্যবসার ধারণা থাকলেই অর্থায়ন নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীর ব্যবসার সম্ভাবনা, অর্থের প্রকৃত প্রয়োজন এবং ঋণ মূল্যায়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করে উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে।
অর্থাৎ, আইডিয়ার পাশাপাশি সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং টেকসই—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ধাপে ৬৪০ জন পাবেন সুযোগ
প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ৮টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের জেলাগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা।
পরবর্তীতে কর্মসূচিটি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরো টাকা কিন্তু ‘ফ্রি’ নয়
এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
অনুদানের অংশটি শর্তসাপেক্ষ। উদ্যোক্তা নির্ধারিত নিয়মে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে অনুদানের অংশ ঋণে রূপান্তরিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেটি আর অনুদান হিসেবে গণ্য হবে না এবং ঋণখেলাপির নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে।
তাই এটিকে শুধু ‘২০ লাখ টাকার সরকারি উপহার’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি কম সুদের ঋণ ও শর্তসাপেক্ষ অনুদানের সমন্বিত অর্থায়ন।
কখন থেকে আবেদন করা যাবে?
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কর্মসূচির বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করা হবে। সার্কুলার প্রকাশের পর এক মাস পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশের প্রায় ৫০৩টি উপজেলায় প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৫,০৩০ জন উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আপনার জন্য সুযোগটা কোথায়?
আপনার বয়স ২৮-এর মধ্যে, ব্যবসার একটি বাস্তবসম্মত ধারণা আছে এবং মূলধনের অভাবে সেটি শুরু বা বড় করতে পারছেন না—তাহলে এই কর্মসূচি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে এখন থেকেই শুধু “২০ লাখ পাব কীভাবে?” না ভেবে প্রস্তুতি নেওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার ব্যবসার ধারণা কী, বাজারে এর চাহিদা কতটা, কত টাকা প্রয়োজন, সেই টাকা কোথায় খরচ হবে এবং ব্যবসা থেকে কীভাবে আয় হবে—এসবের পরিষ্কার পরিকল্পনা তৈরি করে রাখুন।
কারণ শেষ পর্যন্ত শুধু ভালো আইডিয়া নয়, ভালোভাবে উপস্থাপন করা এবং বাস্তবায়নযোগ্য আইডিয়াই অর্থায়নের জন্য এগিয়ে থাকবে।




