যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈশ্বিক পর্যটকদের আগ্রহ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা, কড়াকড়ি নীতিমালা এবং সীমান্তে বাড়তি কড়াকড়ির কারণে ২০২৫ সালের মধ্যেই দেশটির আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বাণিজ্যযুদ্ধ, কঠোর অভিবাসননীতি এবং কিছু প্রশাসনিক বক্তব্যকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভ্রমণের প্রতি আগ্রহে ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান Tourism Economics জানিয়েছে, যেখানে বছরের শুরুতে তারা পর্যটক প্রবাহে ৯ শতাংশ বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল, সেখানে এখন তাদের পূর্বাভাস দাঁড়িয়েছে ৯.৪ শতাংশ পতনের দিকে।
“প্রতিটি নতুন নীতিমালাই যেন পর্যটনশিল্পের ওপর আরেকটি বোঝা হয়ে আসছে,” বলছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম স্যাকস।
কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণেও বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ১১.৬ শতাংশ কমেছে আগের বছরের তুলনায়। একই সময়, কানাডা থেকে গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
অনেক কানাডিয়ান নাগরিক নিজেদের মার্কিন ছুটির বাড়িগুলো বিক্রি করছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগ্রহ হারাচ্ছেন।
“আগে আমরা ছুটি কাটাতে ফ্লোরিডা বা অ্যারিজোনায় যেতাম। এখন আমাদের পরিবার জাপানে যাচ্ছে,” বলেন টরন্টোর এক ভ্রমণকারী।
কানাডার এক ভ্রমণ সংস্থার কর্মকর্তা বলছেন, “আমরা মনে করি, এখন আর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মতো দীর্ঘদিনের মিত্রদের সম্মান করে না।”
ইউরোপীয়দের মধ্যেও অনিশ্চয়তা
ব্রিটিশ ফরেন অফিস সম্প্রতি নাগরিকদের সতর্ক করেছে, মার্কিন অভিবাসন আইন ভঙ্গ করলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের বার্তা ইউরোপীয় পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যটন খাতেও ধাক্কা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য ক্যালিফোর্নিয়া, যেখানে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা প্রায় ২৬.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন। কিন্তু ২০২৫ সালের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, সেই প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ থেকে কমে ২.৩ শতাংশে নেমে আসছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে, যেখানে পর্যটন খাতেই অর্ধ মিলিয়নের বেশি লোকের জীবিকা, সেখানেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
Hollywood City Tours-এর মালিক জানাচ্ছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর তাদের ব্যবসা ৩০ শতাংশ কম। “আমরা প্রতিদিন বেশিরভাগ বাস খালি নিয়ে ঘুরি,” বলেন তিনি।
এয়ারলাইন্স এবং হোটেল খাতেও সংকট
Delta Airlines-এর CEO স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন ভ্রমণ চাহিদায় সরাসরি আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (USTOA) সতর্ক করে বলেছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে পুরো দেশজুড়ে পর্যটন খাত অর্থনৈতিকভাবে অস্থির হয়ে উঠবে।
প্রেসিডেন্ট টেরি ডেল বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের খাত রক্ষার প্রশ্ন।”
ভবিষ্যতের বড় ইভেন্টগুলো নিয়েও শঙ্কা
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বিশ্ব পর্যটকের নজর কাড়ার পরিকল্পনা করছিল, তা এখন অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যদি বর্তমান পরিস্থিতি না বদলায়, তবে আগত আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোতে পর্যাপ্ত বিদেশি দর্শক না পাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।




