সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় এবং ফাইল আটকে থাকার সংস্কৃতি বন্ধ হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রতিবেদনটি জমা দেয়।
প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর আহ্বান
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারি সেবাকে নাগরিকদের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিক যেন সেবা নিতে ব্যক্তিগতভাবে সরকারি দপ্তরে যেতে বাধ্য না হন, বরং সরকারই সেবা পৌঁছে দেবে মানুষের কাছে।
প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের নির্দেশনা
তিনি জানান, জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমস্যা সমাধানমুখী করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ জনবল বা আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে নম্বর ও ইনসেনটিভ চালুর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে র্যাংকিং ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তাব দেন।
পাঁচটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান মূল্যায়নের আওতায়
প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পাঁচটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
- বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি)
- বিসিএস প্রশাসন একাডেমি
- বিয়াম ফাউন্ডেশন
- জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (নাডা)
- জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি)
এই মূল্যায়ন কার্যক্রম জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো মূল্যায়ন
কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন মূল্যায়ন এই প্রথম। তাই মানদণ্ড নির্ধারণে ‘লার্নিং বাই ডুয়িং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান বৃদ্ধিতে ধাপে ধাপে সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়বে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



