লিখেছেনঃ আফরোজ মজহার পূর্ণতা
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের বিজনেস দুনিয়ায় নতুন এক কেনাবেচার বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে,যেখানে সাধারণত used পণ্য বা সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্যের কেনাবেচা হয়ে থাকে। এই used পণ্যের মধ্যে রয়েছে হরেক রকম ফার্নিচার,কাপড়,বই থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক গ্যাজেটও। এমনকি এই ব্যবসাকে “Thrift Business” নামেও ডাকেন জেনজি তরুণেরা।
Bangladesh Textile Journal-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে second-hand clothing market এর বৃদ্ধি হবে ১২৮%, যা retail apparel market-এর তুলনায় তিন গুণ বেশি!
অনেকেই এখন বাসায় বসে এই থ্রিফট পণ্য বিক্রয়ে উৎসাহিত হচ্ছেন,তবে সুনির্দিষ্ট ধারণা বা পরিকল্পনা করে উঠতে পারছেন না। তাই আজকের বিস্তারিত আলোচনায় থাকছে কীভাবে একটি পরিকল্পিত উপায়ে used জিনিস বিক্রি করে ব্যবসা শুরু করা যায় এবং টেকসই করা যায়।
Used পণ্যের বিক্রয় কি লাভজনক?
আয়ের স্বল্পবদ্ধতা এবং বাজেট এর মধ্যে ইউনিক ব্র্যান্ড কালেকশন ক্রয়ের জন্য ক্রেতাদের মধ্যে সেকেন্ড হ্যান্ড ব্যবসা ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। তাই অনেক তরুণ এই মার্কেট ডিমান্ডের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে স্বল্প ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে Used পণ্যের স্টোর শুরু করছেন।
স্বল্প ইনভেস্টমেন্ট – থ্রিফট পণ্যের পাইকারি মূল্য অরিজিনাল থেকে কয়েকগুন কম,তাই কম মূলধন দিয়ে সহজেই স্টক পণ্য সঞ্চয় করা যায়।তাছাড়া নিজের অব্যবহৃত জিনিস দিয়েই অনেক সময় ব্যবসা শুরু করা যায়।
বাজার ডিমান্ড বেশি – অনেকে বাজেট-বান্ধব প্রোডাক্ট খোঁজেন। সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সহজেই বিক্রি হয়।
সাস্টেইনেবল প্রোডাক্ট – পুরোনো পণ্য রিসাইকেল করলে অপচয় কমে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখা যায়।
ব্র্যান্ডেড পণ্য – পোশাক থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন বা ঘড়ি,হাতের নাগালেই Used ব্র্যান্ডেড পণ্য পাওয়া সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ Founder Institute Dhaka: আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবার ঢাকায়
ব্যবসার শুরুতে থাকুক সঠিক ধারণা
নতুন একটি ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই একটা ক্লিয়ার পূর্ব ধারণা রাখা প্রয়োজন।
১.টার্গেট অডিয়েন্স ফিক্স করুন : আপনি যে ধরনের used পণ্য বিক্রি করতে ইচ্ছুক, তার উপর ভিত্তি করে আপনার টার্গেট কাস্টমার বেস নির্ধারণ করুন। যেমন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বই বা সাশ্রয়ী ল্যাপটপ কিংবা থ্রিফট জামা কাপড়,তরুণদের জন্য ইলেক্ট্রিক গ্যাজেট অ্যাক্সেসরিজ এবং মাদ্ধমে আয়ের পরিবারের জন্য ফার্নিচার ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স ইত্যাদি।
২.গুণগত মান যাচাই : ব্যবসায় কাস্টমারের আস্থা অর্জন করতে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্যের ত্রুটি থাকে,তা ফিক্স করে অথবা কাস্টমারকে জানিয়ে বিক্রয় করতে হবে।
৩. অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন : সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়াতে Used পণ্যের ব্যবসা বেশি জনপ্রিয়। নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ দিয়ে অনেকেই সফল ভাবে পণ্য সেল করছেন। নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম উল্লেখ করা হলো –
- Facebook Marketplace
- Bikroy.com
- Daraz Pre-owned Products
LightCastle-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পণ্যসমূহ কিনতে re-commerce platform (অনলাইন মার্কেটপ্লেস, থ্রিফট স্টোর, Facebook Marketplace) ব্যবহার করেন ৬১% গ্রাহক!
টেকসই পরিকল্পনা করবেন যেভাবে
ব্র্যান্ডিং : ক্রেতার কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপনা করুন এবং একটা নির্দিষ্ট পণ্যের বিক্রয়ের মাধ্যমে সেলফ ব্র্যান্ডিং ইমেজ গড়ে তুলুন। এছাড়া ইউনিক ছবি তোলার ধরণ,লাইটিং,প্রমোশন আপনাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখবে।
কাস্টমার কেয়ার : আপনার ব্যবসা কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করছে আপনি কতটুকু কাস্টমার বিশ্বস্ত সার্ভিস প্রদান করছেন। সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিতকরণ,বিক্রয়ের পর গ্রাহকের প্রশ্ন বা অভিযোগকে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজনে “return policy” এবং “refund পলিসি” রাখুন।
মার্কেটিং ও প্রচার : সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং যেমন ফেসবুক রিলস,টিকটক ভিডিও ইত্যাদি সক্রিয় প্রচার চালু রাখুন। তাছাড়া SEO অপ্টিমাইজড কনটেন্ট মার্কেটিং অর্থাৎ ব্লগ বা ভিডিওর মাধ্যমে আরো ক্রেতা আকৰ্ষণ করা যায়।
আরো পড়ুন : কম পুঁজিতে বড় মার্কেটিং — সাশ্রয়ী উপায়ে ব্যবসা বাড়ানোর কৌশল
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
| চ্যালেঞ্জ | সমাধান |
| ভুয়া ক্রেতা বা প্রতারণা | অর্ডার কন্ফার্ম করতে অ্যাডভান্সড পেমেন্ট পলিসি চালু করুন। |
মানহীন বা ত্রুটিসম্পন্ন পণ্য | মানহীন বা ত্রুটিসম্পন্ন পণ্য – সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য নেওয়ার সময় ভালো করে মান যাচাই করুন,ত্রুটি সম্মন্ধে অবগত থাকুন এবং ভালো মানের পণ্য সময় নিয়ে খুঁজে নিন। |
ডেলিভারিজনিত সমস্যা | মানসম্পন্ন ডেলিভারি সার্ভিস সিলেক্ট করুন,নিম্নমানের সার্ভিসে অধিকাংশ সময়ে পণ্য নষ্ট কিংবা চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। |
| বাজার প্রতিযোগিতা | তুমুল বাজার প্রতিযোগিতায় নিজের ব্যবসা আলাদা করে প্রেজেন্ট করুন ট্রেন্ডি মার্কেটিং এর মাধ্যমে |
বাংলাদেশে used জিনিস বা থ্রিফট পণ্যের ব্যবসা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সকল বয়সের মানুষের কাছে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যায়ে নিজের ব্যবসাকে ধরে রাখতে প্রয়োজন রিসার্চ বেইজেড ধারণা এবং পরিকল্পনা,সাথে নিশ্চিত করতে হবে কাস্টমারের আস্থা। উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে ,কম ইনভেস্টমেন্ট দিয়ে একটা বড়ো সুযোগ হতে পারে Used পণ্যের ব্যবসা। তবে মাথায় রাখতে হবে যে একমাত্র ট্রান্সপারেন্সি ও মানসম্মত পণ্য সেল করাই এই ব্যবসার মূল চাবিকাঠি।
প্রশ্নোত্তর (F&Q)
১. বাংলাদেশে কি সত্যিই Used জিনিস বিক্রির বাজার আছে?
– হ্যাঁ, বাংলাদেশে সেকেন্ড-হ্যান্ড বা used পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। অনেকেই বাজেট সাশ্রয় করতে পুরোনো মোবাইল, ল্যাপটপ, ফার্নিচার, পোশাক বা বই কিনতে পছন্দ করেন। এমনকি LightCastle-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬১% গ্রাহক re-commerce প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছেন। তাই বাজারের সম্ভাবনা বিশাল।
২. Used পণ্য বিক্রি করতে কতটা মূলধন দরকার?
– এই ব্যবসা শুরু করার জন্য বড় ধরনের মূলধনের প্রয়োজন নেই। শুরুতে নিজের অব্যবহৃত জিনিস দিয়েই বিক্রি শুরু করা যায়। পরে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে bulk এ কিনে বা রিফার্বিশড করে বিক্রি করলে ব্যবসা বড় করা সম্ভব।
৩. কিভাবে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা যাবে?
– গ্রাহকের আস্থা অর্জন করাই এই ব্যবসার মূল চাবিকাঠি।পণ্যের অবস্থা পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে,আসল ছবি ব্যবহার করতে হবে,সময়মতো ডেলিভারি এবং ভালো সাপোর্ট দিতে হবে।প্রয়োজনে return বা exchange policy রাখা যেতে পারে।




