ঢাকা: বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা মূল্যায়নে পাঁচ দিনের সফরে আগামীকাল (১২ জুলাই) ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সফরের মূল উদ্দেশ্য হবে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা।
১৬ জুলাই পর্যন্ত চলা এই সফরে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার (Ivo Krznar)।
সফরের প্রথম দিনেই প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা, রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি সংস্কার, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, বিনিময় হার নীতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই সফর কোনো আনুষ্ঠানিক ঋণ আলোচনা নয়। বরং বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যমে আইএমএফ সিদ্ধান্ত নেবে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী ধাপে এগোনো হবে কি না।
প্রতিনিধি দল চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি রাজস্ব নীতি, সরকারি ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, সার ও খাদ্য ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন এবং বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হবে।
এছাড়া ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, ব্যাংক রেজোলিউশন আইন বাস্তবায়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে একটি পৃথক গোলটেবিল বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।
আইএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার, সংস্কার পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়া। সফরে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আইএমএফ তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পন্ন করবে, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঋণ আলোচনা শুরু করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশা, সফরের মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বার্ষিক সভার পর আনুষ্ঠানিক ঋণ আলোচনা শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে Resilience and Sustainability Facility (RSF) যুক্ত হওয়ায় কর্মসূচির আকার বেড়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে নির্ধারিত সংস্কার শর্ত পূরণ না হওয়ায় গত বছরের ডিসেম্বরের পর আইএমএফ নতুন অর্থ ছাড় স্থগিত করে। পরবর্তীতে নতুন সরকার আগের কর্মসূচি বাতিল করে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আবেদন করে।



