spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আমদানি ভ্যাট ১০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব

লেখকঃ মুসাররাত খান

দেশে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ সংকট ও মূল্যচাপ মোকাবিলায় আমদানির পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় এলপিজি আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি পুনর্বহাল করে কার্যত ভ্যাটহার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, বাজারে সরবরাহ ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে দ্রুত কর কাঠামোয় হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাইপ লাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ সীমিত থাকায় দেশের গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে এলপিজির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমদানির পাশাপাশি উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়েও কর ছাড়ের প্রস্তাব

এনবিআর-কে পাঠানো চিঠিতে শুধু আমদানির পর্যায় নয়, স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়েও কর ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী-

  • স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট,
  • ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট,
  • অগ্রিম আয়কর (Advance Income Tax) থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর ছাড় বাস্তবায়িত হলে আমদানিকারক, উৎপাদক ও পরিবেশকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে, যেখানে এলপিজির খুচরা দাম স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

আরোও পড়ুনঃ এলপিজি গ্যাসের মূল্য কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের 

আমদানিনির্ভর বাজার ও শীতকালীন চাপ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। এই এলপিজি মূলত গৃহস্থালি রান্না, ছোট ব্যবসা, পরিবহন এবং শিল্প খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিবছর শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির সরবরাহ তুলনামূলকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ে, যার ফলে দাম বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় নতুন সংযোগ বন্ধ থাকে বা চাপ কমে যায়। ফলে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এসব কারণ মিলিয়েই বর্তমানে বাজারে যে সংকট দেখা দিয়েছে তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার পর এনবিআরে প্রস্তাব

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এলপিজি বাজার পরিস্থিতি ও কর কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আমদানির পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।

একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন ও বাণিজ্য পর্যায়ে কর ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নীতিগত ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) এর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি এনবিআরের কাছে পাঠানো হয়।

আরোও পড়ুনঃ এনবিআর এক লাখ নতুন ব্যবসা ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে 

দেশজুড়ে এলপিজি বিপণন ধর্মঘটের প্রভাব

এই প্রস্তাবের পটভূমিতে এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি সারা দেশে এলপিজি বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রমে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বর্তমান কর কাঠামোয় পরিবহন, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির ব্যয় কাভার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড় না দেওয়া হলে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যা গ্রাহক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়াবে।

নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গি

নীতিনির্ধারকদের মতে, এলপিজি এখন আর বিলাসী পণ্য নয় বরং এটি শহর ও গ্রাম উভয় এলাকার জন্য একটি অপরিহার্য জ্বালানি। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে কর কাঠামো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি। আমদানি, উৎপাদন ও বাণিজ্য সব স্তরে কর ছাড় কার্যকর হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরঃ

১. এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট কমানোর মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তরঃ বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম স্থিতিশীল রাখা।

২. দেশে কত শতাংশ এলপিজি আমদানিনির্ভর?

উত্তরঃ প্রায় ৯৮ শতাংশ এলপিজি বেসরকারি খাতের আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

৩. স্থানীয় উৎপাদনে কী ধরনের কর ছাড় প্রস্তাব করা হয়েছে?

উত্তরঃ স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ের ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট এবং অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

. শীতকালে কেন এলপিজির সংকট বাড়ে?

উত্তরঃ শীতকালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে এবং দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ সীমিত থাকায় এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়।

৫. এই আমদানির ফলে কৃষকরা কীভাবে উপকৃত হবেন?

উত্তরঃ নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত হলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সময়মতো ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্রঃ

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img

Latest article

গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি ও সিইও হলেন শেখ রকিবুল করিম

লেখকঃ নিশি আক্তার  ঢাকা ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ)-এর অনুমোদনক্রমে শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ (FCA), গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর...

উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সিলেটে ব্যাংক এশিয়ার উদ্যোগ

লেখকঃ নুজহাত জাহান নিহান সিলেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে এক মাসব্যাপী উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করেছে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত...

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অফিসার ক্যাডেট নিয়োগ

লেখকঃ নিশি আক্তার  বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ইঞ্জিনিয়ারিং, এটিসি, এডিডব্লিউসি, লিগ্যাল, মিটিওরলজি এবং শিক্ষা (পদার্থ বিজ্ঞান) শাখায় অফিসার ক্যাডেট হিসেবে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা...

দেশের বাজারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে র‍্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট

স্বল্প সময়ে অধিক দৃঢ়তা অর্জনের সক্ষমতার কারণে আধুনিক নির্মাণ ব্যবস্থায় এই বিশেষ ধরনের সিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে ফাউন্ডেশন, কলাম, বীম ও ছাদ ঢালাইয়ের...