ঢাকা: নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে প্রবেশাধিকার সহজ করতে একাধিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি পৃথক স্টার্টআপ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করা হয়েছে, যেখানে ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ।
শনিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত ছাড়াই ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া জামানত সাপেক্ষে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগও থাকবে। এই স্কিমের আওতায় ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।
স্টার্টআপ খাতের জন্য চালু হওয়া নতুন ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। এছাড়া উদ্ভাবনী স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য ইকুইটি বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশগ্রহণে Bangladesh Start-up Investment Company PLC গঠন করা হয়েছে, যা সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে ইকুইটি বিনিয়োগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত ১ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদে ঋণ তহবিল ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই সফলভাবে শেষ হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবকদের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাইক্রো উদ্যোগে ঋণ দেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় একই ধরনের ১,২০০ কোটি টাকার নতুন তহবিল গঠনের কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও স্টার্টআপ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এসব কর্মসূচি দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে।



