সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মন্তব্য উঠে এসেছে—বাংলাদেশে নাকি নতুন করে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তবে তথ্য-উপাত্ত বলছে ভিন্ন কথা।
পরিসংখ্যানে স্পষ্ট অগ্রগতি
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে নেট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৭৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৯,২৪৭ কোটি টাকা।
এই সময়ের মধ্যে BIDA মোট ৭৩৯টি নতুন প্রকল্প নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ৬৬টি পুরোপুরি বিদেশি মালিকানাধীন প্রকল্প এবং ৬১টি যৌথ বিনিয়োগে (joint venture) গঠিত।
এই সংখ্যাগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখনও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয়।
ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের গতি
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA) ও রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEPZA) মিলিয়ে মোট ৪৭টি কোম্পানির সঙ্গে জমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এর মধ্যে একাধিক কোম্পানি সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন এবং কিছু যৌথ উদ্যোগ। এই প্রকল্পগুলোতে প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার (১২,২২০ কোটি টাকা)।
ভুল তথ্যের প্রভাব
FDI নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো দেশের ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা যখন বাস্তবতা না জেনে এমন নেতিবাচক মন্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেটা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই BIDA অনুরোধ করেছে, তথ্য যাচাই করে, দায়িত্বশীল মন্তব্য করার জন্য।
সক্রিয় পদক্ষেপ ও আন্তঃসংযোগ
BIDA ইতোমধ্যে পলিসি রিফর্ম, প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি আয়োজিত Bangladesh Investment Summit 2025-এ সেক্টরভিত্তিক B2B নেটওয়ার্কিং সেশন হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে চীন থেকে আগত একটি উচ্চপর্যায়ের বিজনেস ডেলিগেশনকে ঘিরে ১০০টিরও বেশি B2B মিটিং আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মিটিংগুলোতে ফোকাস থাকবে টেক্সটাইল, ফুড প্রসেসিং ও ইলেকট্রনিকস খাতে।
বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া
বিদেশি বিনিয়োগ কখনোই তাৎক্ষণিক হয় না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানিগুলো বাজার বিশ্লেষণ করে, রিস্ক ফ্যাক্টর বিবেচনা করে এবং যথাযথ পরিকল্পনার পর বিনিয়োগ করে।
তাই স্বল্প সময়ের ভিতর বিনিয়োগের প্রবাহ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না।
উপসংহার
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ হয়নি, বরং এটি ধীরে ধীরে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান, প্রকল্প নিবন্ধন এবং চলমান উদ্যোগ প্রমাণ করে দেয়—বাংলাদেশ এখনও বৈশ্বিক বিনিয়োগ মানচিত্রে এক সম্ভাবনাময় গন্তব্য।





