ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের খেলাপি ঋণ সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ আইনি ও নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন কর্মপরিকল্পনার আওতায় খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, আমানত সুরক্ষা আইন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
স্বল্পমেয়াদে খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নতুন ‘রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি গাইডলাইন’ এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হবে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইএফআরএস-৯ (IFRS-9) বাস্তবায়ন, জামানতের মূল্যায়নে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ব্যবহার, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা আধুনিকীকরণ এবং ঋণ আদায়ে সফল কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে একজন গ্রাহক পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, তার আইনি সীমা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি খেলাপি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (AMC) গঠনের জন্য আইন প্রণয়ন এবং অর্থঋণ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক পুনর্গঠনের জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধন করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং আইডিআরএর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সংশোধিত আইন অনুযায়ী অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩১ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজের তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের মতে, এসব সংস্কার কার্যকর হলে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



