দ্য ডেইলি করপোরেট ডেস্ক
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের আসনের নিচ থেকে ৯ কেজি ৩৩১ গ্রাম ওজনের ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।
বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বর্ণের বারগুলো উড়োজাহাজের একটি আসনের নিচে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণের পর কাস্টমস কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিশেষ তল্লাশির জন্য উড়োজাহাজটিতে প্রবেশ করেন। সে সময় উড়োজাহাজটি যাত্রীশূন্য ছিল।
পরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তল্লাশি শুরু হলে একটি আসনের নিচে সন্দেহজনকভাবে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট পাওয়া যায়। সেগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে খুললে ভেতর থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি স্বর্ণের বারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম।
শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনার অভিযোগ
কাস্টমস জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলোর কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর এড়িয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে স্বর্ণগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।
উড়োজাহাজের ভেতরে স্বর্ণগুলো লুকিয়ে রাখার মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস তল্লাশি এড়িয়ে পরবর্তী সময়ে কোনোভাবে সেগুলো বিমানবন্দর এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে এই চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে NBR জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে
উদ্ধার করা স্বর্ণের উচ্চমূল্য বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান পণ্য সংরক্ষণাগারে জমা রাখা হয়েছে।
প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, আটক বা বাজেয়াপ্ত স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতু বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, দেশীয় অর্থনীতি সুরক্ষা এবং স্বর্ণসহ মূল্যবান পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: ইউএনবি




