লেখকঃ কাজী গণিউর রহমান
রেমিট্যান্স ও রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা ও ডলারের বাজারমূল্য স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার ২৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (US$353 million / প্রায় ৩৫.৩ কোটি ডলার) কিনেছে। নিলাম কমিটি মাল্টিপল-প্রাইস অকশনের মাধ্যমে এই ক্রয় সম্পন্ন করে এবং কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয় এক ডলারে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা।
কেন কেনা হলো — কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে বর্তমানে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত ডলার জমা হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই অতিরিক্ত মুদ্রা ক্রয় করছে যাতে বাজারে ডলারের হঠাৎ পতন থেকে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের ক্ষতি না ঘটে — ফলত বিনিময়হার বাজারমুখীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়। তারা জুলাই থেকে এ ধরণের নিলাম চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি আর্থিক বছরে মোট কেনা কত?
জুলাই থেকে সোমবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১৭৪ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার (US$1.7475 billion) ক্রয় সম্পন্ন করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান নির্দেশ করে। নিলামের ফলে ওই মোট পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিলাম পদ্ধতি ও পূর্ববর্তী লেনদেনের সংক্ষিপ্ত রেকর্ড
উক্ত ক্রয় মাল্টিপল-প্রাইস অকশনে (multiple-price auction) সম্পন্ন হয়েছে—এখানে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন দামে বিড করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিড গ্রহণ করে কাট-অফ রেট নির্ধারণ করে। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর একই কাট-অফ রেটে (১২১.৭৫ টাকা) বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছিল; আর জুলাইটে একাধিকবার (১৩ জুলাই, ১৫ জুলাই, ২৩ জুলাই ইত্যাদি) বড় আকারে ডলার কেনা হয়। এই ক্রয়ের উদ্দেশ্যও ছিল মূলত বাজার-স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
কেন এটা জরুরি — একাধিক অর্থনৈতিক কারণে বিশ্লেষণ
রেমিট্যান্স ও রপ্তানিকারকদের নিরাপত্তা: ডলারের মূল্য দ্রুত হ্রাস পেলে তাদের আয়সমূহ কমবে — তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে মূল্য স্থিতিশীল রাখছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সহায়তা: নিয়মিত ক্রয়র ফলে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে; সম্প্রতি ক্রয় কার্যক্রম রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
বাজার-অস্থিরতা হ্রাস: ডলারের অস্বাভাবিক ওঠন্টাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দূর্লভ মুদ্রাগত আন্দোলন থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করা যায়।
অর্থনীতিবিদ ও বাজারজানকারদের মন্তব্য
বিশ্লেষকরা বলছেন—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের নিলাম নীতিগতভাবে যুক্তিযুক্ত, কারণ মুদ্রাস্ফীতি ও রপ্তানিকারক-রেমিট্যান্স ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করা জরুরি। তবু দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শক্তিশালী রপ্তানির ধারাবাহিকতা এবং অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বাড়ানোই দামের স্থিতিশীলতার মূল উপায় হবে—কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় এককভাবে সব সময় সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে।
প্রাসঙ্গিক জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১। কত ডলার কেনা হয়েছে ও কাদের কাছ থেকে?
উত্তরঃ ২৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (US$353 million) কেনা হয়েছে। কাট-অফ রেট ছিল ১২১.৭৫ টাকা প্রতি ডলার।
প্রশ্ন ২। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট কত ডলার কিনেছে?
উত্তরঃ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত মোট ১৭৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার (US$1.7475 billion) ক্রয় করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সম্পন্ন নিলামগুলোর মাধ্যমে এসেছে।
প্রশ্ন ৩। কেন বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে?
উত্তরঃ বাজারে সরবরাহ-চাহিদার অনুপাতে ডলারের দাম দ্রুত নেমে গেলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানিকারকদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে—এবং মূল্যের অতিগতি অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে; এসব থেকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দফায় দফায় ডলার ক্রয় করছে।
তথ্যসূত্র
Ittefaq — BB buys $353 million through auction to stabilise rate.





