লেখকঃ কাজী গণিউর রহমান
বাংলাদেশের জলবায়ু ন্যায় আন্দোলনের তরুণ মুখ ফারজানা ফারুক ঝুমু জাতিসংঘ মহাসচিবের তৃতীয় দফার ‘Youth Advisory Group on Climate Change’–এর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ অর্জন তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে অগ্রণী প্রতিনিধিরূপে উপস্থিত করেছে। জাতিসংঘ শিশু ও যুব উন্নয়ন (Youth 2030 Strategy) এবং “Our Common Agenda” এর অংশ হিসেবে গঠিত এই উপদেষ্টা পরিষদে এবার মোট ১৪ জন, যেখানে ঝুমু প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্থান পেয়েছেন।
ফারজানা ফারুক ঝুমু হলেন ‘কাঠপেন্সিল’ নামক একটি সামাজিক উদ্যোগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবপ্রাপ্ত শিশুদের জন্য শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা ও সমাজসচেতনতা প্রচারে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি জলবায়ু কর্মসূচিতে যুক্ত হন—‘Fridays for Future’ আন্দোলন বাংলাদেশে MAPA (Most Affected People and Areas)–এর সমন্বয়ে নেতৃত্ব দেন।
২০২২–২৪ সালে তিনি ইউনিসেফ বাংলাদেশে ‘Youth Advocate’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে শিশুর প্রতি জলবায়ু ঝুঁকির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণে “Children’s Climate Risk Index” প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি COP26 ও COP27 সম্মেলনে বাজেট ও জলবায়ু নীতিতে শিশুবান্ধব সমাধান চাইতে দেশীয় কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন।r
বর্তমানে “People’s Climate Diplomacy Program”–এর প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী হিসেবেও কাজ করছেন। এ প্রোগ্রামের লক্ষ্য যুব কর্মীদের বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ এবং বৈশ্বিক সমাধান বাস্তবায়নে সক্ষম করা।
আলোচনা
ফারজানা ঝুমুর এই যোগদান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি—তা শুধুমাত্র ব্যক্তি হিসেবে অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের সক্ষমতা ও তরুণ শক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একজন তরুণ নারী হিসেবে, তিনি বায়ু ন্যায়, শিশু অধিকার এবং উন্নয়ন-বিষয়ক সমন্বয়কারণে প্রাসঙ্গিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। দলের সম্প্রসারণ—৭ থেকে ১৪ সদস্য—প্রমাণ করে যে ইয়ুথ অ্যাডভাইজারি গ্রুপে সক্রিয় যুবকণ্ঠকে আরও প্রতিফলিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকি প্রবণ দেশে তরুণ প্রতিনিধিত্ব বাড়লে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় দেশীয় সমাধানগুলো যোগ্যতাসম্পন্নভাবে প্রতিফলিত হবে। ঝুমুর অন্তর্ভুক্তি একটি পজিটিভ সংকেত যা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে উৎসাহ দিচ্ছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১। ফারজানা ফারুক ঝুমু কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু আন্দোলনে সক্রিয় তরুণ প্রতিনিধি, যিনি শিশু অধিকার এবং জলবায়ু ন্যায়কে একত্রিত করে কাজ করছেন এবং সম্মানজনক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দেশের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছেন।
প্রশ্ন ২। তার আগে তিনি কোথায় কাজ করেছেন?
উত্তরঃ তিনি ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত UNICEF বাংলাদেশে Youth Advocate হিসেবে কাজ করেছেন এবং COP26 ও COP27–এ প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
প্রশ্ন ৩। Youth Advisory Group-এর কী উদ্দেশ্য?
উত্তরঃ এটি জাতিসংঘ মহাসচিবকে বাস্তবসম্মত এবং ফলাফল-কেন্দ্রিক সুপারিশমূলক পরামর্শ দেয়, যা জলবায়ু নীতিতে যুব শক্তির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে।





