লেখকঃ কাজী গণিউর রহমান
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক Pacific Energy Group তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান Eleris Energy Ltd (EEL) এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বর্নদ্বীপে দেশে সর্ববৃহৎ সৌর শক্তি হাব নির্মাণে ১৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।
প্রকল্পের কাঠামো ও পরিকল্পনা
প্রকল্পটির প্রাথমিক পর্যায়ে ১০,০০০ একর অব্যবহৃত স্থলজুড়ে ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর শক্তি উৎপাদন হবে, যা পরবর্তীতে ২,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সম্প্রসারণযোগ্য। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তিতে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটাবে এবং নতুন RE Policy 2025-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল, এটি Army Welfare Trust-সহ সরকার ও বেসরকারির যৌথ উদ্যোগে (PPP) পরিচালিত হবে, যেখানে বাংলাদেশ সরকারি ভূমি দেবে এবং EEL প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, যা Build–Own–Transfer ভিত্তিতে সংগঠিত।
প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
- সূত্র উল্লেখ করেছেন EEL-এর সিইও ডেভিড টেলর, “প্রকল্প থেকে ২০ বছর ধরে আনুমানিক ২৩ বিলিয়ন ডলার আর্থিক লাভ হবে, এবং সুসাময়িক লক্ষ্য অর্জনে এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”।
- বার্ষিক রূপান্তর ব্যয় কমবে প্রায় ৫০ কোটি ডলার, যা ২০ বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।
- প্রকল্পটি স্থানীয়ভাবে ৫০০ মেগাওয়াট (ডিসি) সৌর প্যানেল সংযোজন কারখানা নির্মাণ করবে ঢাকা নিকটবর্তী এলাকায়, যা বাংলাদেশের শক্তি উৎপাদনে নিজেদের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।
- এতে ২,৫০০-এর বেশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে।
বাস্তবায়ন সূচি ও পদক্ষেপ
- বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (BPDB) ইতিমধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে এবং শক্তি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে।
- নির্মাণ কাজ ২০২৬ সাল থেকে শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।
- বিশ্বব্যাংকের MIGA সহায়তায় আর্থিক ও বীমা কাঠামো সুনিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ
রাজশাহী হাইটেক পার্কে স্টারলিংকের ৪০ বছরের লিজ – বাংলাদেশের ডিজিটাল যুগের নতুন দিগন্ত
ট্রাম্পের পালটা শুল্ক – বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
| বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান | Pacific Energy Group (মার্কিন) |
| গন্তব্যস্থল | স্বর্ণদ্বীপ, নোয়াখালী–চট্টগ্রাম |
| প্রারম্ভিক ক্ষমতা | ১,০০০ মেগাওয়াট |
| সম্প্রসারণ সক্ষমতা | ২,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত |
| প্রকল্প কাঠামো | PPP—Build–Own–Transfer (Bangladesh Army Welfare Trust) |
| লক্ষ্য সময় | ২০২৬ সালে নির্মাণ শুরু |
| আর্থিক প্রভাব | $১৪ বিলিয়ন সাশ্রয়, $২.৩ বিলিয়ন অর্থনৈতিক সুবিধা, ২,৫০০+ কর্মসংস্থান |
| স্থানীয় শিল্প | ৫০০ মেগাওয়াট ডিসি সোলার প্যানেল কারখানা |
| প্রযুক্তি | LONGi সোলার মডিউল, BESS, বন্দর ও ট্রান্সমিশন অবকাঠামো |
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১। এই প্রকল্প কেন বৈশ্বিক ও জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ এটি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তিতে গিগাওয়াট-স্তরের প্রথম প্রকল্প, যা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে, মূল্য নিয়ন্ত্রণে, এবং ভৌত নিরাপত্তায় সহায়তা করবে।
প্রশ্ন ২। কোন মডেল অনুসারে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে?
উত্তরঃ এটি Build–Own–Transfer (BOT) মডেল অনুসরণ করবে, যেখানে EEL নির্মাণ ও পরিচালনা করবে, এবং নিশ্চিত পর্যায়ে বাংলাদেশ অধিকার পাবে।
প্রশ্ন ৩। কারখানাটি কী ভূমিকা রাখবে?
উত্তরঃ কারখানা স্থানীয়ভাবে সোলার প্যানেল তৈরি করবে, ফলে আমদানি কমবে এবং দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন উৎসাহিত হবে।
প্রশ্ন ৪। কোথায় কারখানা স্থাপন হতে পারে?
উত্তরঃ এটি ঢাকা সংলগ্ন একটি স্থানে নির্মান করা হবে, তবে নির্দিষ্ট ঠিকানা এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র
- Dhaka Tribune – “US-based Pacific Energy Group to build 1st Gigawatt-Scale Integrated Solar Hub in BD”
- The Business Standard – “US Firm Pacific Energy Group ready to build first gigawatt-scale integrated solar hub in Bangladesh”
- GreenWatch BD – “US Firm to Build Bangladesh’s First Gigawatt Solar Hub”





