spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে? বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলী

বাণিজ্যিক ব্যাংকে আর্থিক লেনদেন করে থাকলেও অনেকেই বাণিজ্যিক ব্যাংক সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা খুব কম মানুষেরই। বাণিজ্যিক ব্যাংক বেশিরভাগ স্বল্প-মেয়াদী এবং মধ্য-মেয়াদী অর্থায়নের বিকল্পগুলি অফার করে। আজকের আর্টিকেলে আমরা বাণিজ্যিক ব্যাংক সম্পর্কে সকল তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানবো।

বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে?

যে ব্যাংক বাণিজ্যিক স্বার্থে গঠিত হয় এবং পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকেই মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংক বলা হয়। এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ ও ঋণদান করে থাকে। অর্থাৎ যে ব্যাংক  মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে যে ব্যাংক আমানত সংগ্রহ, ঋণদান ও গ্রাহকদের বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে । এই বাণিজ্যিক ব্যাংকে কেন্দ্র করেই মূলত আধুনিক ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য। 

অন্যান্য ব্যাংকের মতো, বাণিজ্যিক ব্যাংকেরও রয়েছে  বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য। সেগুলো হলো –

১) বাণিজ্যিক ব্যাংকের সর্ব প্রথম বৈশিষ্ট্য এবং মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন করা।

২)বানিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের হিসাবের ভিত্তিতে তুলনামূলক কম সুদের বিনিময়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার  মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে।

৩) মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহীত টাকা বেশি সুদের বিনিময়ে সাধারণ কম মেয়াদি ঋণ হিসেবে অন্যদের দিয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক দিয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে ঋণ নেওয়া ব্যক্তির তা পরিশোধ করার সামর্থ্য বুঝে তবেই ঋণ দেওয়া হয়।

৪) বাণিজ্যিক ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়া ব্যক্তিদের উত্থাপিত চেকের মূল্য পরিশোধ করতে হয় তবে ব্যাংকিং সেবার মধ্যে অন্য ব্যাংকের মতোই অন্যান্য সেবা প্রদান করে থাকে।

৫) এটি সঞ্চয় হিসাব, ফিক্সড ডিপোজিট সহ সব ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলী। 

অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ ও ঋণদান বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলী হয়ে থাকলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই ব্যাংক নিয়মিত বিভিন্নমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে। বাণিজ্য ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলী গুলো হল-

বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজগুলি হল –

১। আমানত গ্ৰহণ:

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান কাজ হল জনসাধারণের কাছ থেকে বা শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদ টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করা এবং প্রকৃতি অনুসারে আমানত তিন প্রকারের হয়, যথা- ১.চলতি আমানত, ২সঞ্চয়ী আমানত এবং ৩. স্থায়ী বা মেয়াদী আমানত।

২। অর্থ ঋণদান :

বাণিজ্যিক ব্যাংকের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানতে পারে যে আমানতকারীরা সবাই একসঙ্গে টাকা তুলে নেবে না তাই কিছু টাকা নগদ রেখে বাকি টাকা ঋণ হিসেবে দেয়। 

৩। সাধারণ পরিসেবা প্রদান : বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়মিত সাধারণ পরিষেবা প্রদান করে থাকে।

এরা শহর ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে এবং অর্ধশহরাঞ্চলে শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে বিভিন্ন পরিসেবা প্রদান করে চলছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি, ছোট ব্যবসায়ী, কারিগর, স্ব-নিযুক্তি ইত্যাদি প্রকল্পে ঋণদান করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করে।

৪। প্রতিনিধিত্বমূলক কাজকর্ম :

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি তাদের আমানতকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে চেক করে থাকে এবং প্রমিশরি নোট বা বাণিজ্যিক হুন্ডি ভাঙাতে সাহায্য করে। এছাড়াও  আমানতকারীর শেয়ার, ঋণপত্র কেনা থাকলে তার লভ্যাংশ, সুদ ইত্যাদি পাওনা আদায় করে ।  তারা গ্রাহকদের প্রতিনিধি হিসেবে শেয়ার, ঋণপত্র ব্যাংক কিনে নেয়। বাণিজ্যিক ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত আমানতকারীর পেনশন, গ্রাহকদের হয়ে বিমার প্রিমিয়াম, আয়কর প্রভৃতি আদায় করে থাকে।

৫। ঋণ বা আমানত সৃষ্টি :

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি গুণক-প্রক্রিয়ায় ঋণ সৃষ্টি বা আমানত সৃষ্টি করে অর্থের জোগান বৃদ্ধি করে এবং  নগদ টাকা ছাপানোর কোনো অধিকার নেই ঠিকই, তবুও আমানত বা ঋণভিত্তিক অর্থ সৃষ্টি বাণিজ্যিক ব্যাংকব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

৬। অন্যান্য কাজ :

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়বিক্রয়, বৈদেশিক হুন্ডি, বিমাপত্র ইত্যাদি বাণিজ্যিক ব্যাংক বহন করে, এই সকল ঋণপত্র জমা রেখে ঋণ সরবরাহ করে।

বাণিজ্যিক ব্যাংক বেশিরভাগ স্বল্প-মেয়াদী এবং মধ্য-মেয়াদী অর্থায়নের বিকল্পগুলি অফার করে থাকে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এটি সর্বদা কাজ করে চলছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

বাংলাদেশ–মিয়ানমার–চীন অর্থনৈতিক করিডোরঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত, নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ?

লেখকঃ মুসাররাত খান চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত...

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে, বিশ্বব্যাংকের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

ঢাকা: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪৫০ মিলিয়ন ডলার) অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়ন ফাইন্যান্সিয়াল...

প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ সুকুক চালু করল সরকার

ঢাকা: দেশের ইসলামী অর্থায়ন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি শরিয়াহভিত্তিক বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক (Short Term BGIS) চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ...

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা: দেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ বশির উদ্দিন। মঙ্গলবার...