লেখকঃ নুজহাত জাহান নিহান
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনেই দেশে এসেছে ২৬১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (২.৬১ বিলিয়ন ডলার), যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৬.২ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির ২৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। শুধুমাত্র ২৫ জানুয়ারি এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ১৪ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রেমিট্যান্স প্রবাহের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই বাড়তি প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি দেওয়া এবং ডলার বাজারের চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রেমিট্যান্স। সম্প্রতি ডলার বাজারে যে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনেও এই প্রবাহ বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনের আগে বাড়তি রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় মেটানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত সমর্থকদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
এ ছাড়া সরকারের দেওয়া রেমিট্যান্স প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। জুলাই থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.২০ শতাংশ বেশি।
গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে জানুয়ারি শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩২৫ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে ২৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে এবং আগামী মাসগুলোতে ডলার বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
Source link-





